Foto

অনলাইনে মিলছে না রেলের টিকেট, দুদক বলছে ‘কারসাজি’


ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য রেলের অগ্রিম টিকেটের অর্ধেক অনলাইনে ও রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রির কথা থাকলেও সেখান থেকে যাত্রীরা টিকেট কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকেট বিক্রির সার্ভাররুমে অভিযান চালায়। সেখানে টিকেট ব্যবস্থাপনা সংস্থা সিএনএসের প্রতিনিধিকে সার্ভার ডাউন ও কালোবাজারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো ‘সদুত্তর’ দিতে পারেননি বলে জানায় দুদক।


অভিযানে থাকা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ’টিকেট ব্যবস্থাপনায় সিএনএসের কারসাজি করছে বলে সন্দেহ হচ্ছে।’

এ ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির ব্যর্থতার সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাও দায়ী বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি আজ সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল ৯টা থেকে কমলাপুর স্টেশনসহ ঢাকার পাঁচটি স্টেশন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়। আজ দেওয়া হচ্ছে ৩১ মের অগ্রিম টিকেট।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলের এই অগ্রিম টিকেট বিক্রি বুধবার থেকে শুরু হয়ে ২৬ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই টিকেট বিক্রি করা হবে।

এবার মোট ৭০ হাজার টিকেট বিক্রি হবে বলে জানানো হয়েছে। এর অর্ধেক বিক্রি হবে অনলাইন ও অ্যাপে। বাকি অর্ধেক রাজধানীর পাঁচটি জায়গা থেকে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ভিআইপি কোটা ৫ শতাংশ এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট ২৮ হাজার টিকেট স্টেশন থেকে সরাসরি বিক্রি করা হবে।

এ ছাড়া অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকেট বিক্রি করা হবে। তবে স্পেশাল ট্রেনের কোনো সিট মোবাইল অ্যাপে পাওয়া যাবে না। ঈদের পাঁচ দিন আগে ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।

ঈদুল ফিতরের অগ্রিম টিকেট বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় টিকেট বিক্রয়ের রুটগুলো হচ্ছে : ঢাকা (কমলাপুর)-সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেন ভায়া যমুনা সেতু, বিমানবন্দর স্টেশন-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তনগর ট্রেন, তেজগাঁও স্টেশন-ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তনগর ট্রেন, বনানী স্টেশন-নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেন, ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন)-সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তনগর ট্রেন।

২২ মে দেওয়া হচ্ছে ৩১ মের টিকেট, ২৩ মে দেওয়া হবে ১ জুনের, ২৪ মে দেওয়া হবে ২ জুনের, ২৫ মে দেওয়া হবে ৩ জুনের এবং ২৬ মে দেওয়া হবে ৪ জুনের টিকেট।

রেলের ফিরতি টিকেট বিক্রি ২৯ মে শুরু হয়ে ২ জুন পর্যন্ত চলবে। ২৯ মে দেওয়া হবে ৭ জুনের, ৩০ মে দেওয়া হবে ৮ জুনের, ৩১ মে দেওয়া হবে ৯ জুনের, ১ জুন দেওয়া হবে ১০ জুনের এবং ২ জুন দেওয়া হবে ১১ জুনের ফিরতি টিকেট।

টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‍্যাবের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকবে।

টিকেট কালোবাজারি রুখতে ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখিয়ে একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কিনতে পারবেন। ঈদের আগে ও পরে মালবাহী ট্রেন বন্ধ থাকবে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ