Foto

অনুমোদন পেল আরও তিন ব্যাংক


ব্যাংক খাত নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মধ্যে আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচশ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্তে বেঙ্গল কমার্শিয়াল, দ্যা সিটিজেন ও পিপলস ব্যাংকের সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর মূলধনের শর্ত ছিল চারশ কোটি টাকা।


Hostens.com - A home for your website

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারে মূলধন বাড়ানোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব ব্যাংক কার্যক্রমে এলে দেশে মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকটি সভা থেকে এসব ব্যাংকের প্রস্তাব ফেরত পাঠানো হলেও রোববারের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বৈঠকটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাতে সাড়ে ৮টায়।

বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে এ নিয়ে ১৪টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ আইনে গঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে গত বছর তফসিলি ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবে গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, কোন বিবেচনায় নতুন ব্যাংক দেওয়া হলো বোধগম্য নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় যদি এসব ব্যাংক দেওয়া হয়ে থাকে তবে মনে হয় না ফলপ্রসু হবে। এর আগে যে ৯টি ব্যাংক দেওয়া হয়েছিল তাদের অবদান তেমন নেই। বরং জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে। সময় এসেছে ছোট ব্যাংকগুলো একিভূত করার। এখন যেসব ব্যাংক দেওয়া হলো তারা নতুন কোনো উদ্ভাবনী সেবা বা প্রোডাক্ট নিয়ে আসবে, নাকি গতানুগতিক ব্যাংকের মতো চলবে এটা বড় প্রশ্ন। যদি সততা, নিষ্ঠা নিয়ে না চলে সেটা খারাপ হবে।

এলওআই পাওয়া তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের। তিনি এফবিসিসিআইর সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই। দ্যা সিটিজেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। পিপলস ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এমএ কাশেম। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যাংকগুলো কার্যক্রমে আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানান সংশ্নিষ্টরা।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের সাংবাদিকদের বলেন, সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে তিনটি ব্যাংকের এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। তবে ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে পাঁচশ’ কোটি টাকা। এছাড়া আগের সব শর্ত বহাল থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণ বা কর খেলাপি এবং ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সামনে প্রস্তাবিত ব্যাংকের এমডিকে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

সর্বশেষ গত অক্টোবরে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় ’কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’কে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানায় সীমান্ত ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সালে ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। এ ছাড়া চলতি বছর প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 483

Unique Visitor : 71494
Total PageView : 91554