Foto

অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড় শত একর বন উজাড়


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের জামতলা, কালীকৃষ্ণনগর, গদানগর এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনে অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড়। উজাড় হয়ে যাচ্ছে সরকারি শত শত একর বনায়ন। ফলে পরিবেশ হারাচ্ছে ভারসাম্য এবং মাটিবাহী অতিরিক্ত ট্রাক্টর চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট।


উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী সরকারি বনায়ান ও পাহাড় অঞ্চল ঘুরে দেখা যায় মাটি কাটার চিত্র। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তোয়াক্কা না করে দিন-রাতে পাহাড় থেকে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। জামতলা মৌজার মোড়াবাড়ি এলাকায় একটি পাহাড়ের অর্ধাংশ এরই মধ্যে কেটে মাটি বিক্রয় করে দিয়েছে ওই এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। ওই কাটা অংশে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করেছে মহলটি। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় স্থানীয় নেয়াজ আলীর ছেলে মো. মুমিন মিয়া ও ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মুজিবুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রিপন মিয়ার বাড়ির পাশের সরকারি একটি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় করছে। পাহাড়ের মধ্যে থাকা আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, একাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটেও বিক্রি করছে তারা। জামতলা গ্রামের আবুল কাশেম, মোশারফ হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তারা একের পর এক পাহাড় কেটে যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রভাবশালী মহলটি মোড়াবাড়ি এলাকায় ভূমিহীন প্রতিবন্ধী (দুটি পা নেই) রিপন মিয়ার বাড়িটির পাশের পাহাড় কেটে গরু-মুরগির ফার্ম করার ঘোষণা দিয়েছে। মুড়াবাড়ি এলাকায় সরকারি খাসজমিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে প্রতিবন্ধী হারুন মিয়ার পরিবার। এই হারুন মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া একজন জন্মপ্রতিবন্ধী। স্থানীয় দু"জন প্রভাবশালী ভূমিদস্যু মুজিবুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ভূমিহীন প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের সরকারি খাসজমি থেকে উচ্ছেদের নানা ফন্দিফিকির করছে। প্রভাব খাটিয়ে তারা এরই মধ্যে প্রতিবন্ধী পরিবারের ঘরের পাশে থাকা সরকারি টিলা থেকে লক্ষাধিক টাকার মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। পাশাপাশি এই সরকারি ভূমিতে অবৈধভাবে গরু ও মুরগির খামার করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিবন্ধী পরিবারের লোকজনদের তাদের ঘর সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। এ অবস্থায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে প্রতিবন্ধী পরিবারের লোকজনদের।

রিপন জানান, আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। তারা সরকারি খাসজমির টিলা থেকে মাটি বিক্রি করছে, আবার দখল করতে চাচ্ছে এই টিলাসহ জায়গা। এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে একই ইউনিয়নের কালীকৃষ্ণনগর ও গদানগর এলাকার সরকারি বনায়নের পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় করে দিচ্ছে স্থানীয় একটি মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা আক্তার বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাহাড় কাটা বন্ধ করেছি। কাটা অংশে যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে আজ (মঙ্গলবার) তা ভাঙা হচ্ছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments

" ভ্রমণ ও প্রকৃতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ