Foto

অমিত শাহের রোড শোতে হামলা, বাকযুদ্ধে বিজেপি-তৃণমূল


বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শোতে হামলার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুষছে ক্ষমতাসীন দলটি।


এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো থেকেই বিদ্যাসাগর কলেজে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ভাঙা হয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তিও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তবে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, অমিত শাহের রোড শোতে ইট ছুড়ে আক্রমণ চালিয়ে প্রথমে গোলমাল বাধিয়েছে তৃণমূলই। এমনকি রোড শো শুরুর আগেই পোস্টার-ফেস্টুন খুলে দিয়ে প্ররোচনা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে তারা।

প্রশাসনের খবর, নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে মূর্তি ভাঙার খবর পান মমতা। তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন।

পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার রাতে জানান, তদন্ত শুরু করা হয়েছে।এ ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাতে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ’বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের এরকম হাঙ্গামা কখনও দেখিনি। বিহার-রাজস্থান থেকে গুণ্ডা এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলার মানুষ হয়ে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান দিতে পারি না বিজেপির গুণ্ডাদের জন্য।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার তার মিছিল আছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে যোগ দিতে বলেন তিনি। মমতা বলেন, অনেকে বলছে, পুলিশের পক্ষ থেকে নাকি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে গোটা ঘটনায় তৃণমূলের উপরে দায় চাপানো হয়েছে। কিন্তু আমি কথা বলেছি। এমন কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুরোটাই ভুয়া।

তিনি বলে, তৃণমূল এসব করে না। এত বছর ধরে মিছিল করেছি। আমাদের ছাত্রেরা মিছিল করেছে। কোনদিন এমন ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বিধান সরণি দিয়ে অমিত শাহের রোড শো চলছিল। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এসময় এক দল সমর্থক দেওয়াল টপকে বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণি ক্যাম্পাসে ঢুকে হাঙ্গামা শুরু করে। একটি মোটরসাইকেল ও একটি সাইকেলে আগুন ধরানো হয়।

কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) নেতা অভিষেক মিশ্র অভিযোগ করেন, আমরা কিছু করিনি। ক্যাম্পাসের ভেতরে পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিজেপির লোকজন দেওয়াল টপকে ঢুকে ইট ছুড়তে শুরু করে।

তিনি বলেন, বিজেপির মিছিল থেকেই হাঙ্গামা হয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে ওরা।

মূর্তি ভাঙার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষ গৌতম কুণ্ডু।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গোলমাল শুরু হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস থেকে। অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখানোর জন্য গেটের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন টিএমসিপি-সমর্থকেরা। গোলমাল এড়াতে বিজেপির প্রচারের ব্যানার দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে জলের বোতল, আইসক্রিমের কাপ ছোড়া হয়। তারপরেই বিজেপি-সমর্থকেরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ব্যারিকেড উল্টে দেন তারা।

এরপরই রণক্ষেত্রে রূপ নেয় গোটা এলাকা।

শাহ এবং অন্য বিজেপি নেতা যে-গাড়িতে ছিলেন, কলেজ স্ট্রিটের গোলমালের পরেই সেটি দ্রুত এগিয়ে যায়। ঠনঠনিয়া থেকে ফের মিছিল শুরু হয় ধীর লয়ে। কিছু দূর যেতে না-যেতেই ফের হাঙ্গামা বাধে। পরে পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ