Foto

আজকের শিশু আগামীর প্রোগ্রামার


ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে স্কুলশিশুদের গাণিতিক যুক্তিতে শাণিত করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজনে গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।


মঙ্গলবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও সিআরআইর যৌথ আয়োজনে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৩ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।”

রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারের কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জব্বার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোডিং-প্রোগ্রামিং শেখানোর চেয়ে আমরা চাইছি একেবারে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এই পাঠ শুরু হোক। এই সময়ে কোনো কিছু শিখতে শিশুরা কঠিন মনে করে না। আমরা চাই আজকের শিশুরা সবাই প্রোগ্রামার হোক।
“এ কথা আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি যে, আজকে প্রোগ্রামারদেরই বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে বেশি।”

স্কুল পর্যায় থেকে প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য সরকার সারা দেশে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করছে জানিয়ে এখান থেকে অনেক প্রোগ্রামার বেরিয়ে এসে দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) যখন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জুলিয়া নিয়ে কাজ করছে, তখন বাংলাদেশও যেন এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য নির্দেশনা দেন তিনি।

শিশুদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী করতে চলতি বছর মার্চ মাস থেকে সারা দেশে ১৮০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে কম্পিউটার কাউন্সিল ও ইয়াং বাংলা।

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্ল্যাটফর্ম ইয়াং বাংলা জানিয়েছে, সারা দেশ থেকে বাছাইকৃত ১৮০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকেকেন্দ্র করে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা।
গত মে মাস জুড়ে সারাদেশে ১৮০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে পাইথন ও স্ক্র্যাচের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৬৪ জেলা থেকে প্রাথমিকভাবে ৫৪০০ জন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, এর মধ্যে স্ক্র্যাচে ২৭০০ জন এবং পাইথনে ২৭০০ জন শিক্ষার্থী ছিল।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্ক্র্যাচ এবং ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাইথন ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুসারে স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং বিভাগে প্রতি তিনজন শিক্ষার্থী মিলে একটি টিম গঠন করতে হয়। অন্যদিকে পাইথন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে এককভাবে।

জুনে সম্পন্ন হয় জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। প্রতিটি জেলা থেকে বিজয়ী দলগুলোকে নিয়ে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী পাইথনভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্পএবং দুই দিনের স্ক্র্যাচভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প আয়োজন করা হয়।

সমাপনী এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় ।

পাইথন সিনিয়র ক্যাটাগরিতে তিনটি স্কুলকে সেরা পুরস্কারের পাশাপাশি ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় আউটস্ট্যান্ডিং পুরস্কার। স্ক্র্যাচ ক্যাটাগরি থেকেও তিনটি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আউটস্ট্যান্ডিং পুরস্কার দেওয়া হয় ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে।

Facebook Comments

" প্রযুক্তি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ