Foto

আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করতে অসম্মত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত


আফগানিস্তানে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলির করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে সংস্থাটি।খবর বিবিসির। বিচারকরা বলছেন, আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থায় 'সফল তদন্ত পরিচালনার সম্ভাবনা অত্যন্ত সামান্য।এজন্য সেদেশে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং স্থানীয় তদন্তকারীদের সহযোগিতার অভাবকে দায়ী করেছে আইসিসি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে "গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিজয়" হিসেবে আখ্যা দিলেও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই রায়ের সমালোচনা করেছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনারা যুদ্ধাপরাধ সংঘটন করেছিল - এমন অভিযোগ তদন্ত করার জন্য আবেদন করেছিলেন মিজ. বেনসৌদা। তার ভিসা বাতিল হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল যে তার ঐ আবেদনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসা বাতিল করেছে।

সর্বসম্মতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা হিসেবে আইসিসি"র বিচার পূর্ববর্তী আদালতের তিন বিচারক বলেন, এ ধরণের তদন্ত "ন্যায়বিচারের স্বার্থ রক্ষা" করবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই রায়ের ফলে "শুধু এই দেশপ্রেমিকদেরই নয়, আইনের শাসনেরও বিজয় হয়েছে"।

এর আগে এক বিবৃতিতে মি. ট্রাম্প আইসিসিকে "অবৈধ" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন এই বলে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে "দ্রুত এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া" দেখানো হবে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ তদন্তে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্ত "ভুক্তভোগীদের পরিত্যাগ করার অত্যন্ত বেদনাদায়ক নজির" যা "আদালতের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে"।

অ্যামনেস্টির বিরাজ পাটনায়ক বলেছেন, এই সিদ্ধান্তকে "ওয়াশিংটনের হুমকির সামনে কাপুরুষচিত আত্মসমর্পণ" হিসেবে দেখা হতে পারে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সেনারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে কিনা সেই অভিযোগ প্রায় এক দশক ধরে যাচাই করে আসছে আইসিসির কৌঁসুলিরা।

সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে।

আইসিসি যদিও বলেছে যে, যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার "যৌক্তিক ভিত্তি" রয়েছে। বিচারকরা বলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থায় "সফল তদন্ত পরিচালনার সম্ভাবনা অত্যন্ত সামান্য।"

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ