Foto

বেকারদের ইন্টারনেটে আয় করার উপযোগী করে গড়ে তুলছে আইটি হল


ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং বিয়য়ে কথা বলছিলাম ওয়েব ডেভেলাপার ওবায়দুল হক এর সাথে। বেকারত্ত্ব দূর করে দক্ষ আইটি প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের বিকল্প আর কি হতে পারে? শিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত বেকারদের উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে আইটি হল গড়ে তুলছে স্বনির্ভর বাংলাদেশ। মূলত স্থায়ী কোন চুক্তি ছাড়াই স্বাধীনভাবে বিদেশে কোন ক্লায়েন্টের কাজ ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে করে দেয়াই ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। ধারাবাহিকভাবে আমরা সেগুলো জানব।


এক বেসরকারী হিসেবে ধারনা করা হচ্ছে ২০১৮ সালে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা ১ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশী টাকা আয় করেছেন। সহজে তাই অনুমান করা যায় ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিয়ে দিন দিন চাহিদা কিভাবে বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সারদের সব থেকে সুবিধা হচ্ছে , নিজের সুবিধামত সময়ে নিজের মত করে কাজে সৃজনশীলতার চাপ রেখে কাজ করা যায়।

এই বিষয়ে ডেইলী সুরমা প্রতিনিদির কথা হয় আইটি হল এর পরিচালক ওবায়দুল হকের সাথে। তিনি বলেন, বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের একজন ক্লায়েন্ট তার কাজের জন্য বিশ্বের যেকোন প্রান্তে থাকা দক্ষ কর্মী খুজে নিতে পারেন। ইউরোপের একজন ক্লায়েন্ট একটি কাজের জন্য বাংলাদেশী টপ লেভেলের একজন কর্মীকে সহজে খুজে নিতে পারেন। তাছাড়া যে কাজ ইউরোপের একজন কর্মীকে দিয়ে করালে যে পারিশ্রমিক আসবে সে কাজ যদি বাংলাদেশের কোন কর্মীকে দিয়ে করানো হয় তবে পরিশ্রমিক আরও কম আসবে। মূলত সেজন্যই ফ্রিল্যান্সরাদের দ্বারস্ত হচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় দেশের সব কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা।

তাই বলে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। কেননা আপনাকে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হবে বিশ্বের সব প্রফেশনালদের সাথে। তাই নিজেকে দক্ষ কর্মী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক।

আইটি হল ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিয়ের যে সকল ট্রেনিং দিচ্চে তা নিন্মে তুলে ধরা হল-
১। ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং গাইড লাইন
২। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (বেসিক)
৩। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (প্রফেশনাল)
৪। প্রফেশনাল ব্লাক ইমেল মার্কেটিং
৫। প্যাকটিক্যাল ইন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
৬। প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটিং
৭। প্রফেশনাল ব্লগিং এন্ড গুগল এডসেন্স
৮। প্রফেশনাল ইউটিউবিং এন্ড আউটসোর্সিং
৯। অ্যান্ড্রোয়েড স্টুডিও বেসিক এন্ড প্লে-স্টোর
১০। প্রফেশনাল ওয়ার্ডপ্রেস কাষ্টমাইজেশন
১১। ওয়ার্ডপ্রেস কাষ্টম থীম ডেভেলাপমেন্ট
১২। বেসিক ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলাপমেন্ট
১৩। এডভান্স ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলাপমেন্ট
১৪। প্রফেশনাল কাষ্টম পিএইচপি প্রোগ্রামিং
১৫। অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল অ্যাপস ডেভেলাপমেন্ট
১৬। মালটিমিডিয়া ভিডিও এডিটিং
১৭। প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন
১৮। ফ্লাশ অ্যানিমেশন
১৯। বেসিক কম্পিউটার কোর্স
২০। এডভান্স কম্পিউটার এন্ড ইন্টারনেট
২১। বেসিক স্পোকেন ইংলিশ
২২। এডভান্স স্পোকেন এন্ড রাইটিং ইংলিশ

নতুনরা একদম বেসিক কম্পিউটার থেকে শুরু করতে পারেন। প্রতিটি কোর্সই মূলত ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং উপযোগী করে সাজানো হচ্ছে। দক্ষ টিচারদের দ্বারা প্রতিটি কোর্স করানো হবে। কি শেখানো হবে কিভাবে শেখানো হবে তা "আইটি হল" এর প্রতিষ্ঠাতা ওবায়দুল হক নিজে সাজিয়েছেন। তাছাড়া বিশেষ কিছু ক্লাসে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের গাইডলাইন দেবেন। প্রতিটি ক্লাসে রয়েছে উনার নিজস্ব স্পেশাল প্রজেক্টর বেইস উপস্থাপনা। শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ।


এই বিষয়ে আমরা কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম, উত্তর শুনুন উনার মুখেই -

ডেইলী সুরমা প্রতিনিদি - নতুন একজন শিক্ষার্থী সে কিভাবে শুরু করবে?
ওবায়দুল হক - "একদম নতুনদের বেসিক কম্পিউটার থেকে শুরু করতে হবে। তারপর ফ্রিল্যান্স আউটোসার্সিয়ের যে সেক্টরে কাজ করেন না কেন, আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জানতে হবে এবং ইংরেজীতে দক্ষ হতে হবে। কাজ না পাওয়ার সব বড় কারণ হল ক্লায়েন্টর সাথে ঠিকমত কথা বলতে না পারা। সে ক্লায়েন্ট কি আপনাকে কাজ দেবে যে আপনার সাথে কমিউনিকেশনই করতে পারছে না। নিশ্চয় দেবে না। তাই ইংরেজীতে এক্সপার্ট হতে হবে। আর যে কাজ করছেন সে কাজে প্রফেশনাল হতে হবে।"


ডেইলী সুরমা - সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে একটু বিস্তারিত বলবেন কি?
ওবায়দুল হক - সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে এমন একটি প্লাটফরম যেখানে আমরা আমাদের তথ্যগুলো খুজে নেই। যেমন আমরা যদি ইন্টারনেটে আয়
কিভাবে করা হয় তা জানতে চাই তবে আমরা গুগলে গিয়ে লিখব "ইন্টারনেটে আয়"। এই যে গুগল তা হল একটি সার্চ ইঞ্জিন। এরকম আরও অনেক সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। যে প্লাটফরম আমাদের জন্য তথ্য সার্চ করে এনে দেয়।


এখন গুগলে আমরা লিখলাম "ইন্টারনেটে আয়" তাহলে গুগল এই বিষয়ের উপর সকল তথ্য আপনার সামনে নিয়ে আসবে। প্রথম পাতায় দেখবেন কিছু সাইট পরের পাতায় আরও কিছু সাইট। প্রথম পাতায় যে সাইট সেই সাইটে ভিজিটর বেশী হবে। পরের পতায় যে সাইটগুলো আছে সেগুলোতে ভিজিটর কম যাবে। ভিজিটর প্রথম পাতায় যদি তার তথ্য পেয়ে যায় তবে সে পরের পাতায় আর যাবে না। তাই প্রথম পাতায় ওয়েব সাইটকে বা ওয়েব পেইজকে নিয়ে আসার একটি কম্পিটিশন রয়েছে। কারণ সবাই চাইবে তার ওয়েবসাইট প্রথম পাতায় থাকুক। সার্চ ইঞ্জিন কর্তৃপক্ষ তাই একটি মান দন্ড দিয়ে রেখেছে। যেসকল সাইট সেগুলো অধিক পরিমানে ফলো করবে সে সাইট প্রথম পাতায় আসবে। প্রথম পাতায় নিয়ে আসার জন্য এই যে কাজগুলো করতে হয় তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এই কাজের জন্য কিছু প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির অনুসরণ করতে হয়। অনপেইজ অপটিমাইজেশন এবং অফপেইজ অপটিমাইজেশনসহ সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নিজস্ব কিছু রিকুয়ারমেন্ট থাকে। সেগুলোর উপর ভিত্তি করে তারা সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম দিকে একটি পেইজকে দেখাবে কি দেখাবে না তা নির্ণয় করে। অনলাইনে যে প্রডাক্টগুলো সেল দেয়া হয় সেগুলো প্রথম পাতায় নিয়ে আসার জন্য টার্গেট থাকে প্রতিটি কোম্পানীর। এই যে এক বিশাল কম্পিটিশন তাতেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ওয়ার্কারা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেখান।

 

ডেইলী সুরমা প্রতিনিদি - ইংরেজীতে দক্ষতা ছাড়া কি কাজ পাওয়া সম্ভব না?
ওবায়দুল হক - সম্ভাবনা খুবই কম। তবে কোন কাজে এক্সপার্ট হলে আর যদি ইংরেজীতে দক্ষতা খুব ভাল না থাকে তবে ক্লায়েন্টের সাথে চ্যাট করেও কাজ নেয়া যাবে। তাই শুদ্ধ ইংরেজীতে চ্যাট করার মতো দক্ষতা থাকটা অবশ্যক। আর সেটা সম্ভব না হলে, বিদেশী প্রজেক্টে কাজ না করে দেশী ক্লায়েন্টের প্রজেক্টে কাজ করাও যায়। কাজে প্রফেশনাল হলে কোন না কোনভাবে কাজ হায়ার করা যাবে। তাছাড়া আমরা আইটি হল তৈরি করছি বিশ্বমানের একটি প্রফেশনাল আউটসোর্সিং টিম। টিমে কাজ করার সুবিধা হল, যে ইংরেজীতে এক্সপার্ট সে সেই কাজটি করবে। যে মার্কেটিংয়ে এক্মপার্ট সে মার্কেটিংয়ের কাজই করবে।এক্ষেত্রে কোন একটি বিষয় ভালভাবে আয়ত্ত্বে এনে আমাদের ল্যাবে সদস্য হয়ে কাজ করার সুযোগ আছে।

ডেইলী সুরমা প্রতিনিদি - কি কি কাজে অনলাইন মার্কেটে চাহিদা বেশী?
ওবায়দুল হক - প্রতিদিন বড় বড় কোম্পানী বিশাল বিশাল বাজেট নিয়ে অনলাইন মার্কেটে আসছে। নতুন নতুন প্রডাক্ট আসছে। তাদের প্রডাক্টগুলো সেইল করে দেয়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এক্সপার্টদের চাহিদা খুব বেশী। তাছাড়া প্রোগ্র্রামিংয়ের মত উন্নত লেভেলের কাজেও রয়েছে প্রচুর চাহিদা।

ডেইলী সুরমা প্রতিনিদি - ক্লায়েন্ট হায়ার করা ছাড়া আর কি কোন ওয়ে আছে?
ওবায়দুল হক - অবশ্যই আছে। চাহিদা সম্পন্ন মোবাইল অ্যাপস, গেইমিং অ্যাপস, ব্লগিং, ইউটিউবিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি কাজ করা যায়। এসব কাজে ক্লায়েন্ট খুজে বের করারও প্রয়োজন নাই।

ডেইলী সুরমা প্রতিনিদি - আপনাদের সেবা বা সার্ভিস নিয়ে যদি কিছু বলতে চান?
ওবায়দুল হক - আমাদের প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। আমাদের পরিধিও সীমিত। এই মুহুর্তে আমরা রবিরবাজার (কুলাউড়া, মৌলভীবাজার) এ আমাদের সার্ভিস শুরু করেছি। ধীরে ধীরে আমরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেবা বাড়ানোর ইচ্ছে আছে। তাছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের মাধ্যমে মার্জ হয়ে সেবা দিতে চা্য় তবে আমরা সুযোগ দেব। ২০০৬ সাল থেকে আমি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছি। তাই আমার বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারব আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রথমে ইমেল মার্কেটিং হিসেবে কাজ শুরু করেছিলাম। এখন ওয়েব পেইজ ডিজাইন এন্ড ডেভেলাপমেন্ট কাজ করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।

বি.দ্র - ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলাপার ওবায়দুল হক এর সাথে আমাদের আরো কথা হয়েছে যা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।

Facebook Comments

" ফ্রিলেন্সিং " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ