Foto

কলকাতায় ভারতের বিরোধীদলগুলোর বিজেপি-বিরোধী মহাসমাবেশ


আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে হটাতে ভারতের ২৩টি রাজনৈতিক দল একজোটে কলকাতায় মহাসমাবেশ করেছে।


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে শনিবার কলকাতার বিগ্রেড ময়দানে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর ভারতীয় গণমাধ্যম, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বিজেপি-বিরোধী নির্বাচনী জোট গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে ভারতের প্রায় সব উল্লেখযোগ্য বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি লাখ লাখ লোক যোগ দিয়েছেন।

২০১৪ সালে ভারতীয় কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলোর জোটকে নির্বাচনে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল ভারতীয় জনতা দল (বিজেপি) । কিন্তু ভারতজুড়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে কৃষক অসন্তোষ ও নতুন চাকরি তৈরিতে মোদী সরকারের ব্যর্থতা আসছে নির্বাচনে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টি নেতা ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, তামিলনাডুর ডিএমকে দলীয় নেতা এমকে স্ট্যালিন, ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ও জম্মু ও কাশ্মীরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ ও তার ছেলে ওমর আব্দুল্লাহ, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির প্রধান শারদ পাওয়ার, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সরেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, তেলেগু দেশম নেতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী জেডিএস দলের নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী, রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা ও লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস প্রতিনিধি ও সাংসদ মল্লিকার্জন খড়গে, কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র ও আরও অনেকে।

এদের পাশাপাশি সমাবেশে ছিলেন বিজেপির বিদ্রোহী নেতা, সাবেক কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা, বিজেপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয়মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা ও অরুণ শৌরি।

স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ গানের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের কার্যক্রম শুরু করা হয়। মঞ্চে ছিলেন বাংলার জনপ্রিয় গায়ক কবীর সুমন ও নচিকেতা।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে সমাবেশে যোগ দেওয়া বক্তাদের একটাই মূল সুর ছিল, তা হল নির্বাচনে একজোট হয়ে বিজেপিতে হারাতে হবে।

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করার আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী মমতা। তাদের জোট নির্বাচনে জয় পেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্বাচনের পরে ঠিক করা যাবে জানিয়ে নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়াই করাকেই গুরুত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আজ এখান থেকে বিজেপির শেষের শুরু। ‍অষুধের যেমন এক্সপায়ারি ডেট থাকে, তেমনি মোদীর এক্সপায়ারি ডেটও খতম হয়ে গেছে।”

’অনেক হয়েছে অচ্ছে দিন, এবার বিজেপিকে বাদ দিন’ বলে নতুন শ্লোগান তুলেন মমতা। বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিই দেউক, ’অচ্ছে’ দিন আর তারা আনতে পারেব না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কলকাতার মহাসমাবেশকে ’ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বিজেপির বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কারচুপি, ঘৃণাজনিত অপরাধে মদত দেওয়া ইত্যাদি অভিযোগ এনে ভারত ২০১৯ সালে নতুন প্রধানমন্ত্রী দেখবে বলে জানান।

বিজেপি ধর্মের নামে ভারতজুড়ে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে বিরোধীদের একাজোট হওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন ফারুক আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন “কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা পরেও ঠিক করা যাবে।”

নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি ভারতের বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অখিলেশ যাদব। বিজেপিকে হারাতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া।

কংগ্রেস দলীয় নেতা মল্লিকার্জুন মোদীকে প্রশ্ন করে বলেন, “কোথায় গেল আপনার দুই কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।”

আগামী মে মাসের লোকসভা নির্বাচনকে ভারতের ’দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন দক্ষিণের নেতা এমকে স্ট্যালিন।

এখনও বিজেপিতে থাকা শত্রুঘ্ন বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। ’চৌকিদারই চোর হ্যায়’ বলে দেশের জনতা আওয়াজ তুলেছে বলে মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি। জানান মমতার ডাকে কলকাতায় ছুটে এসেছেন তিনি।

“৭০ বছরে পাকিস্তান যেই ক্ষতি করতে পারেনি, চার বছরে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটি তা করে দেখিয়েছে,” বলে মন্তব্য করেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল।

ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ ও বিজেপি ভারতের সংবিধান ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র।

মহাসমাবেশে অংশ নেওয়া সব নেতাই জোটবদ্ধভাবে আগামী লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেন।

গত মাসে এবিপি নিউজের করা এক জরিপে দেখা গেছে, ভারতের আগামী জাতীয় নির্বাচনে মোদীর দল সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং নির্বাচনে বিজেপি পরাজিত হলে বিরোধী নেতাদের মধ্যে যে অল্প কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন তাদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম।

Facebook Comments

" প্রতিবেশী " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ