Foto

কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ভিডিও ফেসবুকে, তরুণ গ্রেপ্তার


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ভিডিও পোস্ট করার পর উত্ত্যক্তকারী এক তরুণকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।চট্টগ্রাম নগরীর বিআরটিসি মোড়ের ফলমণ্ডীতে ১০দিন আগে ওই কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুইজনের একজন তানভীর আহমেদ সিদ্দিককে (২৩) শুক্রবার গভীর রাতে বাকলিয়ার বাইদ্দার টেক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।


কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তানভীর বেশ কয়েকবছর প্রবাসে ছিলেন। তিনি বাইদ্দার টেক একতা ভবনের আবদুল হকের ছেলে। উত্ত্যক্তকারী আরেক যুবক বাকলিয়ার মা আবাসিক এলাকার মোহাম্মদ মাসুদের ছেলে মোহাম্মদ সোহেলকে (২৮) গ্রেপ্তারের চেষ্টা হচ্ছে।

ওসি বলেন, ’গত ৬ মার্চ উত্ত্যক্তের শিকার কলেজছাত্রী তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা উত্ত্যক্তের ভিডিও পুলিশের কাছে দিয়ে তাদের শনাক্তে সহায়তা চেয়েছিলেন।’

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএস তৃতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী ফারহেনা নওরীন গত ৬ মার্চ দুপুরে রিকশায় করে বিআরটিসি মোড়ের ফলমণ্ডী থেকে মাদারবাড়িতে তার বাসায় যাচ্ছিলেন। সে সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক তার পিছু নেয় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে।

নওরীন বলেন, ’দুই যুবক অশ্লীল মন্তব্য করার পর আমার ওড়না ধরেও টান দেওয়ার চেষ্টা করছিল। প্রথমে ভয় পেলেও পরবর্তীতে এর প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি এবং তাদের প্রতিরোধ করি।’

নওরীন আরও বলেন, ’তাদের উত্ত্যক্তের জবাবে আমি তাদেরকে সাহস থাকলে দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য বলি। তারা না দাঁড়িয়ে মাদারবাড়ি পোড়া মসজিদ এলাকায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং আবারও উত্ত্যক্তের চেষ্টা করে। এ সময় আমি সাহস না হারিয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে তাদের কর্মকাণ্ড ভিডিও করি।’

ওই দুই যুবক বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত তিন দফা তাকে অনুসরণ করে অশ্লীল মন্তব্য করে দাবি করে নওরিন বলেন, ’বাসায় গিয়ে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানাই এবং কোতোয়ালী থানার ওসিকে মৌখিকভাবে জানিয়ে ভিডিওটি ফেইসবুকে উনার কাছে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করি।’

এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ’ওই ছাত্রী ভয় না পেয়ে তা প্রতিরোধ করে উত্ত্যক্তকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করলে ভিডিওটি থানা ও আমার ফেসবুক পেইজে শেয়ার করে বখাটেদের শনাক্ত করার আহ্বান জানাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক ব্যক্তি তানভীরকে শনাক্ত করে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা মহসিন কলেজছাত্রীর সাহসের প্রশংসা করে বলেন, ’তার সাহসিকতার জন্যই আমরা বখাটেকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।’

উত্ত্যক্তকারীকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা পাওয়ায় নওরীন তার পরিবারের পক্ষ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনায় নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে।

 

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ