Foto

কারাগারে দুদকের এনামুল বাছির


৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের মামলায় দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


Hostens.com - A home for your website

এর আগে দুপুর ২টার দিকে এনামুল বাছিরকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এজলাসে আইনজীবীদের বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়।

এ সময় তার স্ত্রী, ছেলে ও দুই মেয়ে তার সঙ্গে বসা ছিলেন। শুনানি শুরুর আগমুহূর্তে বাছির তার ছেলে ও দুই মেয়েকে বুকে টেনে নেন। এ সময় দুই মেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বড় মেয়ে বাবাকে সাহস দেন এবং নিয়মিত ওষুধ ও খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেন।

শুনানির সময় এনামুল বাছিরের স্ত্রী আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার তিন সন্তান আদালতের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন।

এনামুল বাছিরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, আসামি এনামুল বাছির দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। মামলার আলামত নষ্টের চেষ্টাসহ সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি জামিন পেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হতে পারে এবং তদন্ত কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতিতে এনামুল বাছিরের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটের দিকে আদালতে শুনানি শুরু হয়। এ সময় এনামুল বাছিরকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। শুনানিতে এনামুল বাছিরের আইনজীবী কবির হোসেন বলেন, বাছিরের দীর্ঘ ২৮ বছরের কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই।

ডিআইজি মিজান চক্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, এনামুল বাছিরের বেতন ছাড়া আর কোনো টাকা তার ব্যাংক হিসাবে নেই। এমনকি দেশের আর কোনো ব্যাংকে তার অন্য কোনো অ্যাকাউন্টও নেই।

আর মামলার আসামি দু’জনেই শিক্ষিত লোক। রমনা পার্কের মতো খোলা স্থানে ঘুষ লেনদেন তারা করবেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

শুনানিতে এনামুল বাছিরের ভাই খন্দকার এনামুল খায়ের তার ভাইকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, তার কর্মজীবনে ১০ টাকা কারও কাছ থেকে ঘুষ নেননি। গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করলেও তার কোনো প্রভাব তিনি কখনই দেখাননি। এমনকি কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধাও তিনি কাউকে দেননি।

পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে তিনি একটি রিট আবেদন করেন। ওই কারণে তাকে তার সংস্থার এবং বাইরের লোকজন শত্রুতা করে ফাঁসিয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ মামলায় এনামুল বাছিরের ভয়েস রেকর্ড করে ফরেনসিক রিপোর্ট করা হয়নি। এমনকি ডিআইজি মিজানেরও ভয়েস পরীক্ষা করানো হয়নি। সত্যিকার অর্থেই তা তাদের ভয়েস কিনা তা জানার জন্য ফরেনসিক রিপোর্ট লাগবে।

অপরদিকে এনামুল বাছিরের জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, হাওয়ার ওপর ভিত্তি করে তো আর মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে ঘুষ লেনদেনের। আর তারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) যদি সংস্থার ওপর দোষারোপ করেন তা দুঃখজনক।

ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দুদক কারও প্রতিপক্ষ নয়।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত ডিআইজি মিজানের সঙ্গে এনামুল বাছিরের কথোপকথনের অডিওর ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ওই অডিওতে এনামুল বাছিরের কণ্ঠ বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

আর এনামুল বাছির অভিযোগ ওঠার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই কণ্ঠের সঙ্গে এনামুল বাছিরের কণ্ঠের মিল পাওয়া গেছে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকাল ৩টা ২৬ মিনিটের দিকে আদালত আসামির জামিন নাকচের আদেশ দেন। একই সঙ্গে জেলকোড অনুসারে ডিভিশনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেয়া হয়। শুনানির পরপরই তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে দুদকের পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বে একটি টিম মিরপুরের এক আত্মীয়র বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে রমনা থানা হাজতে হস্তান্তর করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এর আগে ২১ জুলাই এ মামলায় কারাবন্দি ডিআইজি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।

 

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 131

Unique Visitor : 75905
Total PageView : 94080