Foto

কয়েক সেকেন্ডে তালা ভেঙে ঢুকে যান তিনি


তালা ভাঙতে সময় নেন মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এরপর বাসায় ঢুকে মালামাল নিয়ে সরে যান সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটে। পুরোনো কাপড় কেনার ছদ্মবেশে পাঁচ বছর ধরে নগরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঢুকে এভাবে শতাধিক চুরি করলেও কখনো ধরা পড়েননি। গত মঙ্গলবার রাতে নগরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামের সেই চোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন , পুরোনো কাপড় কেনার ছদ্মবেশে জাহাঙ্গীর আলম নগরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঢোকেন। তাঁর মাথায় থাকে টুকরি। এতে কাপড়ের নিচে থাকে তালা ভাঙার সরঞ্জাম। বাসাবাড়িতে ঢোকার পর কোন বাসার লোকজন বাইরে তালা দিয়ে বেশি সময় বাইরে থাকেন তা লক্ষ করেন। এরপর ওই বাসার দরজার সামনে গিয়ে পুরোনো কাপড় কেনার জন্য ডাক দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কৌশলে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে নগরের রেলস্টেশন এলাকার জানে আলমের কাছে মালামালগুলো বিক্রি করেন।

ওসি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানে আলমকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী রেহেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান জানান, অফিস ও স্কুল সময়টাকে লক্ষ্য করে জাহাঙ্গীর চুরি করে থাকেন। বিশেষ করে ফাঁকা বাসাকে বেছে নেন। তাঁর কাছে আছে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লোহার পাইপ। এটি দিয়েই ঘরের ও আলমারির তালা ভেঙে থাকেন। নগরের চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পাঁচ বছর ধরে তিনি চুরি করে আসছেন। মাথায় পুরোনো কাপড়ের টুকরি থাকায় চুরি করতে যাওয়া বাসার প্রহরীরাও তাঁকে সন্দেহ করতেন না।

বাসা কিংবা ফ্ল্যাট বাড়িতে অপরিচিত কোনো ব্যক্তি কিংবা হকার আসার পর প্রহরীদের সতর্ক হওয়া উচিত। যাতে ছদ্মবেশে কেউ চুরি করতে না পারে। আর প্রহরী না থাকলে বাসার মালিককে সতর্ক থাকতে হবে।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ