Foto

গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে তারা


বগুড়ায় এক কলেজছাত্রকে অপহরণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের হেফাজত থেকে সাকিবুল ইসলাম (২০) নামে অপহৃত সেই ছাত্রকেও উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাকিবুলকে উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার দুপুরে বগুড়া সদর থানা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


অপহৃত সাকিবুল ইসলাম বিআইআইটি নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি পলিটেকনি ইনিস্টিিউটের ছাত্র।

গ্রেফতাররা হলো- শহরের খান্দার নতুনপাড়া (চাপর) এলাকার আবুল কালামের ছেলে রেজাউল ইসলাম রিয়াদ (২৪), একই এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে সজীব (২৫) ও মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার ওয়াদুদ সরকারের ছেলে ওয়াহেদ ফারুকী মেঘ (১৯)। অপর আসামি খান্দার চারতলা এলাকার মৃত সামাদ হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৬) পলাতক।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই ৪ জনই পেশাদার অহরণকারী। গ্রাম থেকে পড়তে আসা স্কুল-কলেজের ছাত্রদেরকেই তারা সাধারণত টার্গেট করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর সোহেল রানা জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দামরুল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাকিবুল শহরের সেউজগাড়ি এলাকার একটি মেসে থেকে পড়ালেখা করে। শনিবার সকালে সে কলেজে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে যায়। দুপুরে পরীক্ষা শেষে সাকিবুল রিকশা নিয়ে মেসে ফিরছিল। দুপুর দেড়টার দিকে খান্দার তিন রাস্তার মোড়ের কাছে পৌঁছার পরপরই ৪ যুবক তাকে অপহরণ করে। এরপর তার বাবার কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে সাকিবুলকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।

সোহেল রানা জানান, বিষয়টি পুলিশ জানার পরপরই তারা অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধারে অভিযানে বেড়িয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, অপহরণকারীদের গ্রেফতারের জন্য সাকিবুলের বাবার মাধ্যমে কৌশলে তাদের দাবি করা টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এজন্য কোথায় কার কাছে টাকা পৌঁছে দিতে হবে তা জানতে চাওয়া হয়। তখন অপরহরণকারীরা তাদের একজনকে রাত ৯টার পর খান্দার বাজারে পাঠানোর কথা জানিয়ে তার হাতেই মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে বলে। তারপর একদল পুলিশ সাদা পোশাকে ওৎ পেতে থাকে এবং পৌনে ১০টার দিকে মুক্তিপণের টাকা নিতে আসা ওয়াহেদ ফারুকী মেঘকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খান্দার পাসপোর্ট অফিসের পেছনে একটি রাস্তা থেকে তার অপর তিন সহযোগীকে গ্রেফতার এবং তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত সাকিবুলকে উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, এই ঘটনায় সাকিবুলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ