Foto

চাই স্থায়ী অবকাঠামো


অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ঘিরে প্রকাশকদের নানা আকাঙ্ক্ষা থাকে, দাবিও থাকে। এবার মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিই দাবি জানাল মেলা নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির আধিকারিকদের দাবি, মেলার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী অবকাঠামোর। এতে মেলা আয়োজন আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যাবে। সেইসঙ্গে মেলার আয়োজন ব্যয়ও কমে আসবে। বাংলা একাডেমির এই দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরাও।


গতকাল রোববার এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। যাতে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ এ দাবি করেন। এর আগের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনগুলোতেও তারা এ দাবি জানিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে হাবীবুল্লাহ সিরাজী সমকালকে বলেন, প্রতিবারই মেলার কলেবর বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে আয়োজনের ব্যাপ্তি। তাই মেলার জন্য একটি স্থায়ী মাঠের প্রয়োজন। যার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানই সেরা। প্রতিবারই মেলা সামনে রেখে নানা অবকাঠামো নির্মাণ করতে হয়, যা বেশ খরচসাপেক্ষও। এ জন্য স্থায়ী কিছু অবকাঠামো প্রয়োজন। সেইসঙ্গে এর সীমানাও বাড়ানো প্রয়োজন।

স্থায়ী অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছরই মেলার মধ্যে বৃষ্টির বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। প্রকাশকদের ক্ষতি হয়। কিন্তু স্থায়ী অবকাঠামো ও রাস্তা নির্মাণ করা গেলে এ বিড়ম্বনা থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

জালাল আহমেদ বলেন, এ বছর অনেক প্রকাশনীই ইউনিট বৃদ্ধি এবং প্যাভিলিয়নের জন্য দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু স্থানের সীমাবদ্ধতার দিকে লক্ষ্য রেখে সেটি করা সম্ভব হয়নি। সামনের বার এটি আর সম্ভব হবে না। মেলার আয়তন বাড়াতে হবে। এসবের সঙ্গে যদি টয়লেটসহ নানা অবকাঠামো আবারও নির্মাণ করতে হয়, তাহলে মেলার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। সে জন্য স্থায়ী অবকাঠামো করা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলা একাডেমির এ দাবিকে দারুণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রকাশকরা। তাদের মতে, স্থায়ী মাঠ ও অবকাঠামো থাকলে মেলার আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে। পাঠকও বছরব্যাপী জানতে পারবেন মেলার আয়োজন সম্পর্কে। মেলার মাঠ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানও এখন বছরজুড়ে রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে থাকবে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, প্রতিবছরই মেলা সামনে রেখে মাঠ প্রস্তুত করতে হয়। কিছু অবকাঠামোও নির্মাণ করতে হয়। স্থায়ী অবকাঠামো হলে মেলার আয়োজন সাশ্রয়ী হবে। এতে মেলার পরিসর বাড়াতেও সমস্যা হবে না।

ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশের সহ-স্বত্বাধিকারী জহিরুল আবেদীন জুয়েল বলেন, এটা হলে খুবই ভালো হয়। কারণ, বৃষ্টিতে প্রতিবছরই বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়।

বাংলা একাডেমির সংবাদ সম্মেলন : গতকাল মেলা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ প্রমুখ।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবার মেলার সমাপনী আয়োজনে ভিন্নতা থাকছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ১০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফানুস উড়িয়ে মেলাকে উদযাপন করা হবে। সেইসঙ্গে লেজার শোর মাধ্যমে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ’বিজয় :৫২ থেকে ৭১ নবপর্যায়ে’র বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

লেখক বলছি... মঞ্চ : গতকাল ’লেখক বলছি...’ মঞ্চে নিজেদের সাম্প্রতিক বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হন পাঁচ কবি-সাহিত্যিক। তাদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ ঘোষ, এম আবদুল আলীম, বিমল গুহ, জেসমিন মুন্নী এবং ড. চৌধুরী শহীদ কাদের।

নতুন বই : একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলায় ৯১টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গল্প ১৬, উপন্যাস ৯, প্রবন্ধ ৭, কবিতা ১৮, গবেষণা ২, ছড়া ১, শিশুসাহিত্য ১৬, জীবনী ৬, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ১, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ২, রাজনীতি ১, রম্য/ধাঁধা ২, ধর্মীয় ১, অনুবাদ ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরে আরও ৫টি বই। এর মধ্যে রয়েছে শামসুজ্জামান খানের ’লেখক বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য’ (কাকলী), আনিসুজ্জামানের অনুবাদের মার্কেসের ’নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ (অন্যপ্রকাশ), শিবব্রত বর্মণের ’বানিয়ালুলু’ (বাতিঘর) ও মোজাফ্‌ফর হোসেনের ’পরাধীন দেশের স্বাধীন মানুষেরা’ (অগ্রদূত)।

মেলামঞ্চের আয়োজন : গতকাল গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ’বলধা গার্ডেন :আমাদের উদ্যান-ঐতিহ্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোকারম হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন হাশেম সূফী, মোহাম্মদ আলী খান ও নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করেন বিপ্রদাশ বড়ূয়া।

সন্ধ্যায় ছড়া পাঠ করেন ছড়াকার মাহমুদউল্লাহ, রফিকুল হক, আলী ইমাম, ফারুক নওয়াজ, লুৎফর রহমান রিটন, আমীরুল ইসলাম, আলম তালুকদার, খালেক বিন জয়েনউদ্দিন, রহীম শাহ, ফারুক হোসেন, আনজীর লিটন ও সুজন বড়ূয়া। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল্লাহ সাঈদ ও সৈয়দ শহীদুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা।

আজকের আয়োজন : আজ মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ’বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের চালচিত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশ নেবেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আলম খোরশেদ ও রাজু আলাউদ্দিন। সভাপতিত্ব করবেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Facebook Comments

" লেখাপড়া " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ