Foto

ছোটবেলা থেকেই ভাবছি হজে যাব


‘ওয়া লিন্নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস্তাতায়া ইলাইহি সাবিলা’ মানুষের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ওপর হজ ফরজ। কালামে পাকের এ বাণী থেকে বোঝা যায়, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব সামর্থ্যবানের ওপর হজ ফরজ। আর হজ তো নারীদের জন্য জিহাদতুল্য।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ’তোমাদের জিহাদ হচ্ছে হজ করা’। (সহিহ বুখারি)।

আমাদের অনেকেই ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখে থাকি হজে যাওয়ার, পবিত্র কাবাঘর, মাকামে ইবরাহিম দেখার, হাজরে আসোয়াদে চুমু দেয়ার, বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা আর জমজমের পানি পান করার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত মক্কা মদিনা দেখার।

বিশেষত যখন থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, হজ করলে, হাজরে আসোয়াদে একবার চুমু খেলে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, তখন থেকেই হজে যাওয়ার ইচ্ছাটা করছি। কিন্তু সুযোগ না থাকায় মন আক্ষেপে ভরে ওঠে ’কতদূর ওই মক্কা মদিনার পথ, ও দয়াময় পাঠাও যেতে তোমার আসমানি রথ’। আর আমাদের মেয়েদের তো হজ করার জন্য আর্থিক সামর্থ্য ছাড়াও মাহরামেরও প্রয়োজন। তো মেয়েদের হজ করার জন্য নিজের ও তার মাহরামের আর্থিক সামর্থ্য প্রয়োজন। আর নারী পুরুষের জন্য হজ তো আলাদাভাবেই ফরজ হয়। তাই নারীদের জন্য সরকারিভাবে হজের বিশেষ সুযোগ রাখা দরকার।

সৌদি আরব থেকে শিক্ষার্থীরা যেটুকুই শিক্ষাবৃত্তি পায় তার বেশিরভাগই ছেলেরা পায়, তাদের সোর্সের কারণে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা মাহরাম থাকলে আবেদন করলে সহজেই বৃত্তি পেয়ে যায়, যদি তারা সঠিক সময়ে আবেদন করতে পারে। এ বিষয়গুলোর সঠিক ও ব্যাপক প্রচার দরকার, কারণ শিক্ষাবৃত্তি লাভ করে মেয়েদের জন্য হজ করাটা সহজ এবং সময়োপযোগী। কিশোর-কিশোরীদের, তরুণ-তরুণীদের হজের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার, সৌদি সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেই যুগান্তকারী এ উদ্যোগ নিতে পারে।

এবার রমজানে আব্বু উমরা থেকে ফিরে বলছিলেন তিনি মদিনায় দেখেছেন প্রায় শতাধিক তুরস্কের শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেসে মদিনা সফরে এসেছে। এ সফর শেষে মক্কা যাবে উমরাহ করতে। সাদা ধবধবে পোশাক গলায় জাতীয় পতাকা খচিত আইডি কার্ড। একসঙ্গে মসজিদে নামাজে আসা যাওয়া তেলাওয়াতে বসা যেন জান্নাতি গেলমান ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা চাইলেই এ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি। আমাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের বাইরে শিক্ষাসফরের আয়োজন তো করেই থাকে। এ আয়োজনগুলো সৌদিতে করলেই হয়।

আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস প্রভৃতি বিভাগ থেকে সৌদি ভ্রমণের ব্যবস্থা তারা সহজেই করতে পারেন। কারণ এ বিভাগের অনেক পাঠের ব্যবহারিক শিক্ষা সৌদিতে রয়েছে। সরকারি বেসরকারি সংস্থা অনুদানের মাধ্যমে ভালো ফলাফলধারীদের জন্য হজ করার ব্যবস্থা করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য হজ বৃত্তি চালু করা যায়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত হবে। হেরেম শরিফে নারী সেচ্ছাসেবীরা নারী হাজীদের সেবা দিয়ে থাকেন।

এসব সেবামূলক কাজের জন্য মুসলিম দেশগুলো থেকে গার্লস গাইড নেয়া হলে অনেক মেয়েদের যেমন হজ করার সুযোগও দেয়া হবে আবার দেশ ও জাতিভেদে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মাঝে সম্পর্ক তৈরি হবে। হজের প্রধান উদ্দেশ্যই তো মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা। নারীদের হজের সুযোগ করে দেয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে এ উদ্যোগগুলো নেয়া জরুরি। বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও আমাদের নারীদের চলার পথ মসৃণ নয়। আমাদের এখনও সাবেকি ধারণায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।

অথচ এক নারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজে উদ্বুদ্ধ করে বলেছিলেন তোমার স্বামী আমার সঙ্গে হজ করল তুমি গেলে না কেন? সেই নারী সাংসারিক অজুহাত দেখালে তিনি বলেন তুমি রমজানে গিয়ে উমরাহ করে আসবে তাহলে আমার সঙ্গে হজ করার সাওয়াব পাবে। আর হজ করা যেমন সাওয়াব বা পুণ্যের কাজ তেমনি হজের সুযোগ করে দেয়াও পুণ্যের কাজ। এ পুণ্য কাজের যে সুযোগগুলো এখন সেই সুযোগগুলোর প্রচার দরকার, যাতে আমরা তা সময়মতো গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের হজ করার তৌফিক নসিব করুন। আমিন।

Facebook Comments

" ধর্ম ও জীবন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ