Foto

জাল নোট ঠেকাতে সতর্কতা, পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ


ঈদসহ যে কোনো উৎসবের আগে বাড়তি কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অপতৎপরতা বাড়ে জাল নোট কারবারীদের। তাদের ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বলা হয়েছে। আর এজন্য আসল নোট চেনার উপায় বিষয়ে রাস্তার মোড়ে-মোড়ে ভিডিও চিত্র প্রচার করতে বলা হয়েছে। রমজান জুড়ে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার কোন ব্যাংক কোথায় ভিডিও প্রচার করবে তার একটি তালিকা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উৎসবের আগে নোট জালকারী চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। পুরো রমজান মাস জুড়ে ব্যাংকগুলোকে আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট সম্বলিত ভিডিও চিত্র প্রচার করতে হবে। এক্ষেত্রে সার্কুলারের সঙ্গে সংযোজনী মোতাবেক ঢাকা শহর এবং ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বগুড়া জেলাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল বা রাস্তার মোড়ে ভিডিও প্রচার করতে হবে। সন্ধ্যার পর কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে ভিডিও প্রচারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় কোন ব্যাংক কবে ভিডিও প্রচার করবে তার একটি তালিকা সংযোজন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তালিকার আলোকে ১৫, ২২ ও ২৯ মে ৩০টি ব্যাংক এবং ১৬, ২৩ ও ৩০ মে ২৬টি ব্যাংক ঢাকা শহরে কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে ভিডিও চিত্র প্রচার করবে। আর ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিডিও প্রচার করতে হবে। এক্ষেত্রে শাখার অবস্থান বুঝে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস থেকে সময়সূচি ঠিক করে দেওয়া হবে। বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল ও সদরঘাট অফিসের বাইরে আরও ৮টি অফিস রয়েছে। এসব অফিস হলো- চট্রগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভিডিও প্রচারের পাশাপাশি প্রতিটি শাখায় গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরে পুরো ব্যাংকিং সময়ে ওই ভিডিও প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। কোনো শাখায় যদি টিভি মনিটর না থাকে নতুন করে মনিটর স্থাপন করে ভিডিও প্রচারের করতে বলা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রতিবছর রমজানে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া জালকারবারীদের প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। এরপরও বড়-বড় শপিংমল, বাজার বা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল নোট প্রচলনের প্রবণতা দেখা যায়। অবশ্য কয়েকবছর আগের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ তৎপরতা কিছুটা কমেছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এটিএম মেশিনে টাকা ফিডিং বা ঢোকানোর আগে আবশ্যিকভাবে জাল নোট সনাক্তকারী মেশিনে পরীক্ষা করে নিতে হবে। গ্রাহকদের কাঠ থেকে সতর্কতার সঙ্গে নোট গ্রহণ করতে হবে। কাউকে নোট দেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে জাল নোট প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রমজান মাস শেষ হওয়ার পর ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক পরিপালিত বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পাঠাতে হবে।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ