Foto

থানায় গিয়ে কফির আদেশ, জায়গা হলো কারাগারে


থানায় গিয়ে বসলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে। আদেশ করলেন চা-কফির। পরিচয় দিলেন সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি)। পরে জানা গেল, এ নামে কোনো এএসপি নেই। এরপর হাতকড়া। সঙ্গের দুজনও কারাগারে। গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায়।


ভুয়া এএসপি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি হলেন কাওসার আলম (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজন হলেন ফায়েজ মিয়া (৩৫) ও কাউসার মিয়া (২৪)। তাঁদের বাড়ি দারমা গ্রামে। তাঁরা কাওসারের মামাশ্বশুর হন।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে ফায়েজ ও কাউসারকে নিয়ে থানায় আসেন কাওসার। কাওসার থানায় নিজেকে ঢাকার মালিবাগ পুলিশের বিশেষ শাখার জ্যেষ্ঠ এএসপি বলে পরিচয় দেন। এরপর তিনি চা-কফি আনার আদেশ করেন। বলেন, তিনি ফায়েজ ও কাউসারের একটি অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে এসেছেন। একপর্যায়ে কাওসারের কথাবার্তা ও চলাফেরায় থানা–পুলিশের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। তারা জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে মালিবাগ থানায় খোঁজ নেয়। সেখানে কাওসার আলম নামের কোনো এএসপি নেই বলে জানতে পারে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার দুটি পরিচয়পত্র দেখান। সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করে থানার পুলিশ। পরে তাঁদের আটক করা হয়।

কাওসারের পরিচয়পত্র দুটিতে দেখা যায়, একটিতে ইংরেজিতে বাংলাদেশ পুলিশ, বিশেষ শাখা ও ডিউটি পাস লেখা। এখানে নামের জায়গায় ক্যাপ্টেন কাওসার (মাস্টার) লেখা। পদবি এএসপি, স্থান বঙ্গভবন, ২২ নভেম্বর ২০১০ থেকে ২২ নভেম্বর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদ লেখা। অন্য পরিচয়পত্রটিতে সরকারি দাপ্তরিক, বিশেষ শাখা, বাংলাদেশ পুলিশ লেখা। এখানে নামের জায়গায় এম কাওসার আলম (মাস্টার) লেখা। পদবিতে এসি (পুলিশ), সংস্থা বঙ্গভবন, বাংলাদেশ, বিশেষ শাখা (পুলিশ) লেখা রয়েছে। উভয় পরিচয়পত্রে কাওসারের ছবি সংযুক্ত।

থানায় আটক থাকা অবস্থায় ফায়েজ মিয়া ও কাউসার মিয়া বলেন, ৬ মার্চ তাঁদের বাড়িতে চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে তাঁরা ভাগনি জামাতা কাওসারকে নিয়ে আসেন। কাওসারের পুলিশ পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।

জানতে চাইলে কাওসার আলম বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার নীলক্ষেত থেকে তিনি পুলিশের পরিচয়পত্রটি তৈরি করেছেন। তিনি ঢাকায় অফিসার্স ক্লাবের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। কেন পুলিশের পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন—তিনি এর কোনো উত্তর দেননি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা
থানার হাজতে রয়েছেন। আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ