Foto

দুই দিনে ৯টি বুথে হানা দিয়ে তুলে নেয় ১৫ লাখ টাকা


ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) থেকে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে এক সপ্তাহের মিশন নিয়ে বাংলাদেশে আসে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপের সাত সদস্য। প্রথম দুই দিনে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৯টি বুথে হানা দিয়ে ১৪-১৫ লাখ টাকা তুলে নেয় গ্রুপের সদস্যরা। বড় টার্গেট নিয়ে আসা চক্রটি দ্রুত গ্রেফতার হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে দেশের ব্যাংকিং খাত রক্ষা পেয়েছে মনে করছেন গোয়েন্দারা।


Hostens.com - A home for your website

ভয়াবহ এ জালিয়াতির ঘটনার পর ব্যাংকগুলোর বুথের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিক টাকা তুলতে কোনো বুথে প্রবেশ করলে তার ওপর বাড়তি নজরদারির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথসহ কয়েকটি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্র্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন যুগান্তরকে বলেন, বুথে অভিনব এ জালিয়াতির রহস্য উদঘাটন করতে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিট, সিআইডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম একসঙ্গে কাজ করছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এক সপ্তাহের বিশেষ মিশন নিয়ে বাংলাদেশে আসে হ্যাকার গ্রুপের সদস্যরা। প্রথম দুই দিনে শুধু ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৯টি বুথে হানা দিয়ে ১৪-১৫ লাখ টাকা তুলে নেয়। তবে অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলেছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বুথ থেকে তুলে নেয়া টাকা তারা কী করেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি গ্রেফতার ব্যক্তিরা। অন্য কোনো ব্যাংক কর্তৃপক্ষও বুথ থেকে টাকা চুরির বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অন্য ব্যাংকেও হয়ে থাকতে পারে। গ্রাহকরা আতঙ্কিত হতে পারে সেজন্য বিষয়টি তারা হয়তো স্বীকার করছে না। চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হলেও একজন দেশের মধ্যে আত্মগোপন করে রয়েছে। আরও এক বা একাধিক গ্রুপ এ মুহূর্তে দেশে আত্মগোপনে রয়েছে বলেও সন্দেহ করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ১৫ দিনে ইউক্রেন থেকে কতজন দেশে এসেছে- সেটা জানতে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তথ্য চেয়েছেন তদন্ত সংস্থা ডিবি। কর্মকর্তারা বলেন, এ জালিয়াতির রহস্য উদঘাটনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সিএসসি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এ ধরনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে কেন বারবার টার্গেট করা হচ্ছে- জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে বারবার বাংলাদেশকে টার্গেট করা হচ্ছে। দেশের ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত দিক তেমন আপডেট নয় বলেও মনে করেন তারা।
এদিকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথে জালিয়াতির ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ব্যাংকগুলো। ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকা চুরির ঘটনার পর হাইকমান্ড থেকে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বুথের টাকা তুলতে গিয়ে কেউ বেশি সময় থাকলে নিরাপত্তাকর্মীকে ভেতরে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ সতর্কদৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে বুথে আগত বিদেশি নাগরিকদের ওপর।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পান্থপথ এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী আইয়ুব আলী বলেন, ঈদের দিন থেকে আমাদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি নাগরিকদের ওপর আলাদা করে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। কেউ ভেতরে গিয়ে বেশি সময় কাটালে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা- সে ব্যাপারে তথ্য নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে নিরাপত্তাকর্মীরা। সতর্কতার কারণেই হ্যাকার চক্রের সদস্যরা ধরা পড়েছে বলে তিনি জানান।

১ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে অভিনব পদ্ধতিতে জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সময় ইউক্রেনের এক নাগরিককে আটক করে বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 409

Unique Visitor : 73669
Total PageView : 93177