Foto

ন্যায় বিচারের জন্য সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন প্রয়োজন


স্বল্পোন্নত কিংবা উন্নয়নশীল দেশের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ রাজনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্পদের সুষম বণ্টন ছাড়া এ কাজটি করা সম্ভব হয় না, যার সঙ্গে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা জড়িত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সবার জন্য ন্যায়বিচার : শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক উন্নয়নের পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক ওই আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।


বক্তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ তুলে এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রয়োজনের কথা বলেন। এর সঙ্গে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারসাম্যের উপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সুশাসন, মৌলিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও এর যথাযথ তদারকির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার প্রসঙ্গও উঠে আসে।

দিনব্যাপী ওই সম্মেলনের দুইটি কর্মঅধিবেশনে অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ও গবেষকরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. জিল্লুর রহমান খান। ড. জিল্লুর রহমান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার বিবেচনায় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে— যা আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন নারীর এগিয়ে যাওয়া ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবদানের প্রশংসা করেন। সামাজিক নানা বাধা ডিঙ্গিয়ে আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি অনিয়ম কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার উপর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সরকার প্রচুর টাকা খরচ করছে। এসব ব্যয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে কিনা, শৃঙ্খলার স্বার্থে তার তদারকি দরকার। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ’সৃজনশীল’ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে কী পড়ানো হচ্ছে—তাও গভীরভাবে পর্যালোচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব দূর করে ’রাজনৈতিক ঐক্যের’র উপরও গুরুত্ব দেন।

সাবেক সচিব সোহেল রহমান চৌধুরী কার্যকর গণতন্ত্রের উপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য কার্যকর গণতন্ত্র কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পিআরআই’র সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার রাজনীতিতে আস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনায় এ ধরনের আস্থা নষ্ট হয়।

এইচ টি ইমাম দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যয় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স থাকবে। নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র কিংবা এ বিষয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, সব মিডিয়া সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। জাতীয় নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুযায়ী এ নির্বাচন সঠিক হয়েছে। তবে দেশব্যাপী ৪৪ হাজার নির্বাচন কেন্দ্রের জন্য সাত লাখ জনবলের ব্যবস্থাপনা সহজ নয়। অবশ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি বিষয়ে ভবিষ্যতে আইন করার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মার্ক ফারহা, পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ড. আতাউর রহমান প্রমুখ।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ