Foto

পরিচালকরা হল ছাড়া সিনেমা দেখাতে পারলে দেখাক: নওশাদ


বিদেশি ছবি আমদানির সহজ নীতিমালা ও দেশি ছবির নির্মাণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। সেইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছে, এ বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ না নিলে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এমন ঘোষণা এবং তার বাস্তবায়ন চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন কিংবা বাণিজ্যিক বিষয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কথা হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের সঙ্গে।


বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা কেন দিল?

দেখুন, বাংলা চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে আমরা সিনেমা ব্যবসা করি। এ ভালোবাসা দিয়ে আর কত? প্রবাদ আছে, ’অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায়, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।’ দেশের প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহ লোকসান গুনছে। দেশে ভালো ছবি হচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়নি। মার্চে যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে, তা দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। ভালো গল্প ও মানের ছবি না হলে চালাব কী? এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ছবি আমদানির নীতিমালা সহজ না হলে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ না করে উপায় নেই।

কিন্তু পরিচালক সমিতি বলছে আপনারা মূলত বিদেশি ভাষার ছবি চালানোর জন্যই এমন ঘোষণা দিয়েছেন?

পরিচালক সমিতি যা বলছে বলুক। তারা তো ব্যবসায়ী নয়। প্রযোজকরা টাকা দিলে তারা ছবি নির্মাণ করেন। আমাদের দেশের অনেক হল মালিকও কিন্তু প্রযোজক। আমাদের ব্যবসার কথাও চিন্তা করতে হয়। দেশে ভালো ছবি নেই, তাহলে বিদেশি ছবি আমদানি করলে তাদের সমস্যা কী? বিশ্বায়নের যুগে এটা মেনে না নেওয়ার কিছু নেই। গায়ের জোরে বললে তো হবে না। আমরা তো বলিনি দেশীয় চলচ্চিত্র চালাব না। দেশের ছবির পাশাপাশি হল বাঁচাতে বিদেশি ছবি আমদানি করে চালানোর কথা বলেছি। দেশের বাইরের চলচ্চিত্র দেখানোর জন্য সরকারের কাছে বছরে মাত্র ১৫ সপ্তাহ সময় চেয়েছি। না হলে হল টিকিয়ে রাখা যাবে না।

কিন্তু একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবি চালাতে আপনাদের কোনো বিনিয়োগ নেই। মেশিনভাড়া, এমনকি হলের সামনে ব্যানারটাও প্রযোজকরা দিয়ে থাকেন। তারপরও লোকসান?

আমাদের বিনিয়োগ নেই- এ কথা যারা বলেছেন, তারা মিথ্যা বলেছেন। কোনো ব্যবসা কি কখনও বিনিয়োগ ছাড়া হয় নাকি? প্রযোজক হলের মেশিনভাড়া দেন না। তারা ছবিটি যখন দেন, তখন কিছু টাকা দেন। সারা সপ্তাহে হল রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় না। সারাদেশে হল মালিকদের প্রায় ৫০ হাজার কর্মচারী আছেন। তাদের বেতন কারা দেয়?

কিন্তু এটা তো ঠিক, দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ভালো নয়। মূলত এ কারণেই দর্শক হলবিমুখ হচ্ছেন বলে দাবি করেন অনেকেই?

কয়েক যুগ ধরে এই একটি অজুহাতই দিচ্ছেন অনেকে। এ খারাপ পরিবেশেও কিন্তু অনেক ছবি ব্যবসা করছে। ভালো গল্পের ভালো ছবি পেলে দর্শক আসবেন। আর হল মালিকরা টাকা পেলে তখন হলের নতুন ডেকোরেশন করতে পারবেন। টাকা না পেলে ব্যবসা না হলে আমরা কীভাবে হলের সংস্কারের কাজ করবো। তার পরও যতটা্ সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি। আমার মধুমিতা হলের বলের পরিবেশ অনেক ভালো এখন। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানে থাকলে তো ব্যবসা থেকে মন উঠে যায় আমাদের।

কিন্তু সিনেমা হলে তো বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়....

বিজ্ঞাপন চালানো হয় ঠিক আছে। কিন্তু সিনেমা হলকেন্দ্রিক কোনো ব্যবসা নেই। বিজ্ঞাপনের টাকা দিয়ে খরচ ওঠে না। সিনেমাকে ভালোবাসি আমরা। তাই সিনেমা ব্যবসা করতে এসেছি।

আপনারা হল বন্ধ করলে পরিচালকরা বিকল্পভাবে সিনেমা দেখাবে বলে জানিয়েছেন। হল বন্ধের ঘোষণার আগে পরিচালক ও শিল্পীদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আপনাদের কোন বৈঠক হযনি?

নাহ, তাদের সঙ্গে কোন বৈঠক হয়নি। তারা তো টাকার বিনিময়ে ছবি করে। আমাদের ব্যবসার কথা আমাদেরই ভাবতে হয়। তারা যদি হল ছাড়া সিনেমা দেখাতে পারে দেখাক। আমরা আমাদের দাবীর কথা সরকারকে জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রবান্ধব। আমার বিশ্বাস সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন।

 

Facebook Comments

" বিনোদন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ