Foto

পুণ্যভুমি সিলেটের দিকে চোখ সারাদেশের মানুষের


পুণ্যভুমি সিলেটের দিকে চোখ সারাদেশের মানুষের। কেননা, বিভাগীয় শহর সিলেটের অন্যতম সিলেট-১ আসন থেকে যে প্রার্থীই বিজয়ী হন; তার দল বা জোটই গঠন করে সরকার। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১০টি জাতীয় নির্বাচনেই দেখা গেছে এমন চিত্র। কে জয়ী হন আর কে হন পরাজিত; এটিই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে এবার বড় ভ‚মিকা রাখবেন প্রায় সাড়ে আট লাখ তরুণ ভোটার। যারা এবারই প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন। তাদের ভোটে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। তরুণদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যে প্রার্থী তরুণ সমাজের দাবি-দাওয়া পূরণে ভ‚মিকা রাখবেন তাকেই তারা ভোট দেবেন।


সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া আহমেদ এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। বিগত সিটি নির্বাচনে তিনি ভোট প্রদান দিলেও কোনো জাতীয় নির্বাচনে এবারই ভোট দেবেন প্রথম। তিনি বলছিলেন, আমরা তরুণসমাজ নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয় মাথায় রেখেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করব। সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত মানুষকে আমরা ভোট দেবো। কোনো সন্ত্রাসী-গডফাদারকে আমরা নির্বাচিত করব না। আমরা চাইব আমাদের ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন জাতীয় সংসদে গিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করেন।

শহরতলির বিমানবন্দর থানাধীন বড়শালা এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমদ। তিনি ইনকিলাবকে বললেন, আমরা চাই দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের উন্নয়ন। মন্ত্রী-এমপিরা সংসদে গিয়ে ভোটারদের কথা ভুলে যান। কিন্তু নির্বাচনের আগে তারা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। এমন প্রার্থীকে আমরা ভোট দেবো না, যারা কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করেন। যারা ভোটারদের সেবা করেন না। তরুণসমাজ অনেক সচেতন। আমি মনে করি, তরুণ ভোটাররা এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, যারা ক্ষমতায় গিয়ে বেকারত্ব নিরসনে কাজ করবেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সততার সাথে কাজ করবেন।

চাকরির খোঁজে থাকা দিলরুবা হোসাইন বলেন, পড়ালেখা শেষ করে বেশ কয়েক বছর চাকরির জন্য ঘুরেছি। কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণ কপালে জুটল না। আগামী বছরই আমার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হবে যাবে। আমি চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।
নগরীর উত্তর কাজীটুলা এলাকার আরেকজন যুবক মিফতাহ উদ্দিন মিয়াদ বলেন, যে প্রার্থী বা যে দল বেকারদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেবেন, আমার ভোট তাকেই দেবো।
নগরীর টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা সোহান আহমদ এবারই প্রথমবার ভোট দেবেন। তিনি একটি কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি জানালেন, যে প্রার্থী বেকারদের চাকরির সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন, তিনি তাকেই ভোট দেবেন। তার সহপাঠীরাও এমন চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানান সোহান।

শাহপরাণ থানাধীন মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক মিয়া। তিনি একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। এবার তিনি প্রথম ভোট দেবেন। তার সাথে আলাপকালে জানা গেছে, দেশ ও স্বাধীনতার শত্রুদের তিনি ভোট দেবেন না। যারা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী, তিনি তাকেই ভোট দেবেন। পাশাপাশি তার পছন্দের প্রার্থীকে অবশ্যই সৎ ও যোগ্য এবং শিক্ষিত হতে হবে।
নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে রোববার ভোরে কথা হয় ফজলু মিয়ার সাথে। তিনি রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তার মনে ভোট নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তিনি বললেন, ভাই আমরা কামলা মানুষ। দিন আনি দিন খাই। ভোটে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর চেয়ে সেদিন কাজে যাওয়া অনেক ভালো বলে মনে করি। কেননা, এই দেশের কোনো নেতাই মানুষের সেবা করেন না। তারা শুধু লুটপাট করেন।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ২০ হাজার ৬০৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ২০১ জন। আর পুরুষ ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন। নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন আট লাখ ৪০ হাজার ১৯২ জন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই নতুন ভোটাররা রয়েছেন প্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই বিশাল সংখ্যার ভোটার পাল্টে দিতে পারেন ভোটের হিসাব-নিকাশ। আর তাই তারা কী ভাবছেন সে ব্যাপারে নজর দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
সিলেটে ছয়টি সংসদীয় আসন। একটি সিটি করপোরেশন, ১৩ উপজেলা, চার পৌরসভা ও ১০৫টি ইউনিয়নে তিন হাজার ৬২৬টি ভোটার এলাকা নিয়ে গঠিত। জেলায় মোট ভোটার ২২ লাখ ৫২ হাজার ২৯৪ জন। এই জেলাতে এবার ভোটার বেড়েছে দুই লাখ ৮৯ হাজার ৩২০ জন। মৌলভীবাজারের চার আসনে সাত উপজেলার পাঁচটি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭১ জন। জেলাতে ভোটার বেড়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৮৬৮ জন। সুনামগঞ্জ জেলার চারটি পৌরসভা ১১টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৮৬ জন ভোটার বেড়েছে। হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনে ৯ উপজেলার ছয়টি পৌরসভা ও ৭৮ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৬৪ জন। এ জেলায় ভোটার বেড়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ২১৮ জন।

এদিকে সিলেটের ১৯টি আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড. এ কে এ মোমেন তরুণ ভোটারদের ব্যাপারে বললেন, তার দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের বেকারত্ব গোঁচানো এবং তাদের চাকরির ব্যাপারে নির্দেশনা থাকবে। আশা করি তরুণ প্রজন্ম এবারো নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।
সিলেট-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, ’আমি ও আমার দল সবসময় তরুণ সমাজের দাবি-দাওয়াকে শ্রদ্ধা করে আসছে। আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেবো। প্রয়োজনে বেকারদের ভাতাও দেয়া হবে।’

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ