Foto

বাংলাদেশের ক্লাব বনাম নেপাল জাতীয় দল!


‘নেপাল বনাম আবাহনী লিমিটেড’—লেখায় ভুল আছে আবার ভুল নেই! এএফসি কাপে আজ আবাহনীর প্রতিপক্ষ নেপাল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্লাব মানাং মার্সিয়াংদি। খাতা–কলমের হিসাব এক পাশে রাখলে আকাশি-নীলদের লড়তে হবে নেপাল জাতীয় দলের বিপক্ষে। তিন বিদেশি বাদ দিলে মানাংয়ের স্থানীয় খেলোয়াড়দের ২০ সদস্যের ১৭ জনেরই অভিজ্ঞতা আছে জাতীয় দলে খেলার। আর যদি কাঠমান্ডুর ক্লাবটির একাদশের কথা ভাবেন, গোলরক্ষক কিরণ চেমজং ও স্ট্রাইকার বিমল ঘাত্রি ছাড়া নেপাল জাতীয় দলের একাদশের বাকি সেরা তারকারাই থাকবেন মানাংয়ের জার্সি পরে। তাহলে কী হলো, নেপাল জাতীয় দলই তো!


জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরাও। চার বিদেশি বাদ দিলে স্থানীয়দের ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৩ জনেরই জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ছয়জন আছেন ধানমন্ডির দলে। জাতীয় দলের খেলোয়াড় সংখ্যা বিবেচনায় আবাহনী পিছিয়ে থাকলেও এগিয়ে আছে বিদেশি কোটায়। আবাহনীর জার্সিতে চারজন বিদেশি খেললেও নেপালের ক্লাবটি খেলাতে পারবেন তিনজন। নিষেধাজ্ঞা আছে তাদের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার শাহেদ আজিজের। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপে খেলা নিজের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন এই ডিফেন্ডার।

এএফসি কাপে দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাবগুলো মাঠে নামলেই শক্তিমত্তা বোঝানোর জন্য তুলে ধরতে হয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান। এতেই ফুটে ওঠে দুই দেশের আগের দুই চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বর্তমান বাস্তবিক চিত্রটা। কাগজ-কলমের হিসাব বাদ দিলে এখন শুধু লড়াইটা দেখার অপেক্ষা। কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে।

একে তো প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা, খেলতে হবে আবার কৃত্রিম ঘাসের মাঠে। আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস অবশ্য কোনো বাধাকেই পাত্তা দিতে চাচ্ছেন না, "টার্ফে (কৃত্রিম ঘাসের মাঠে) কিছুদিন প্র্যাকটিস করেছি। আমার কাছে এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। খেলোয়াড়েরা খুব উজ্জীবিত হয়ে আছে, তারা এ টুর্নামেন্টে ভালো কিছু অর্জন করতে চায়। প্রথম ম্যাচ জিতে শুরু করাটাই হলো আমাদের লক্ষ্য।"

চলতি প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচের মধ্যে আবাহনী হেরেছে বসুন্ধরা কিংস ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে। সেই হারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ওয়েলিংটনকে যোগ করে বাড়িয়েছে শক্তি। তাদের স্ট্রাইকিং জুটি নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা ১০ খেলায় ৮ গোল নিয়ে আছেন শীর্ষে, ৬ গোল নিয়ে তাঁর এক ধাপ পেছনে দেশি স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। এমন টগবগে দল নিয়ে ভালো একটা শুরুর আশা করতেই পারে আবাহনী।

তবে ইতিহাস পাশে নেই আবাহনীর। ২০০৫ সালে ভুটানে কিংস কাপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলে হেরেছিল মানাং মার্সিয়াংদির কাছে। আজকের ম্যাচের আগে সেই ইতিহাসকেই টেনেছেন ক্লাবটির নতুন কোচ সিরিং লোপসাং, "ভুটানে আবাহনীকে হারিয়েছিলাম। এবার কাঠমান্ডুতে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলব। ম্যাচ জেতাই আমাদের লক্ষ্য। ম্যাচটি আমার কাছে পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। যারা সুযোগ কাজে লাগতে পারবে, তারাই জিতবে।"

নেপালি কোচের চোখে সম্ভাবনা ৫০-৫০। আর আবাহনী জিততে উন্মুখ। ফল কার পক্ষে যাচ্ছে জানা যাবে সন্ধ্যার আগেই।

 

Facebook Comments

" ফুটবল সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ