Foto

বাণিজ্য মেলা থেকে সরকারের আয় ১৮ কোটি টাকা


বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, গত বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ১৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকা, যা প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সোমবার জাতীয় সংসদে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয় বেশি, রফতানি হয় কম। তবে আগামী অর্থবছরে আমদানি ও রফতানিতে ঘাটতি কমিয়ে আনতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।


এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাবে রফতানি বাজার বড় হচ্ছে না। তবে পণ্যে বৈচিত্র্য আনয়নের লক্ষ্যে সরকার বস্ত্র খাতে রফতানি বৃদ্ধির জন্য উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টসওয়্যার, মেডিকেল ইউনিফর্ম ও অন্যান্য।

এসব পণ্য আমদানিকারকদের কাছে পরিচিত করা এবং নতুন নতুন ক্রেতা তৈরির জন্য বাজার অন্বেষণে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ করা হচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ী নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন ২টি করে মোট ১৪টি টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত থাকে।

রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে (২০১৬-১৭) দেখা গেছে দেশে শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার জন। এর মধ্যে শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত যাদের বয়স ১৫ বছর, তদূর্ধ্ব এ সংখ্যা ২৩ লাখ ৭৭ হাজার জন এবং অশিক্ষিত বেকার রয়েছে ৩ লাখ।

বেগম হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে দেশে কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ। বর্তমানে অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮ লাখ। এ সময়ে দেশে প্রায় দুই কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। মোকাব্বির হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ছে, কথাটি সঠিক নয়। বরং বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বে বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে বিদেশে কর্মী পাঠানো হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন। ২০১৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। যার মধ্যে গত বছরে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন।

শেখ এ্যানী রহমানের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাড়ে ৮ লাখের বেশি নারী কর্মী কর্মরত আছেন। সেখানে বাংলাদেশি নারীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এসব নারীর সুরক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বেগম হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত দুই মেয়াদে ২০০৯-১৮ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫ কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে।

এ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রথমবার প্রত্যেক উপজেলা থেকে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

আনোয়ারুল আজীমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসে কর্মরতদের আইনগত সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশে ৩০টি শ্রম উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতারিত হয়ে জেলে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য শ্রমকল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান করে দেশে ফেরত আনা হয়। এজন্য দূতাবাস-হাইকমিশন কর্তৃক নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাগুলো তদারকি করা হয়।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ