Foto

বাবাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন ওসি


অপহরণের পর আসামির স্বজনের হুমকি আর অপমানে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আকতার বর্ষা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যার আগেই পুলিশের কাছে অপহরণের মামলা করতে যান তারা বাবা। তবে মামলা না নিয়ে তাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দিতে চান মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন। শুধু তাই নয়, পরপর চারদিন থানায় গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে।


Hostens.com - A home for your website

শনিবার সকালে মোহনপুর উপজেলা সদরে বর্ষার বাড়িতে গেলে এসব তথ্য জানান পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, সঠিক সময়ে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিলে বর্ষাকে হয়তো আত্মহনন থেকে বাঁচানো যেত।

বর্ষার বোন জানান, বাকশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা স্কাউট দলের সেকেন্ড ক্যাপ্টেন ছিল। স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রায় ৬ মাস ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল পাশের বাড়ির আনিস উদ্দিনের ছেলে মুকুল। তার প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি বর্ষা বাড়িতে জানিয়েছিল। তারা উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানকেও এ ঘটনা জানিয়েছিলেন। তবে তারা ভাবতেই পারেননি, বর্ষাকে অপহরণ করার মতো ঘটনা ঘটাবে মুকুল।

তিনি আরও জানান, গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট পড়তে যেতে চায়নি বর্ষা। তার সহপাঠী প্রতিবেশী সোনিয়া অনেকটা জোর করেই সেদিন তাকে নিয়ে যায়। এরপর সোনিয়া বাড়ি ফিরলেও বর্ষা আসেনি। বিকেলে তারা খবর পান, বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে খানপুর বাগবাজার এলাকায় অচেতন অবস্থায় বর্ষা পড়ে আছে। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে আনা হয় উপজেলা পরিষদের গেটে। ওই দিন সন্ধ্যায় তার বাবা থানায় অপহরণের মামলা করতে যান। তবে ওসি আবুল হোসেন নানা অজুহাতে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন। পরে বর্ষার অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশের গাড়িতে করেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত মুকুলকে গ্রেফতার করলেও সকালে ছেড়ে দেয়। এরপর টানা চার দিন মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।

বর্ষার বাবা আব্দুল মান্নান চাঁদ বলেন, ’আমরা এসপির কাছে যাব বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিদিন থানায় ডেকে আটকে রাখা হচ্ছিল। পরে একদিন ওসিকে বলি, যদি মামলা না নেন, তো বলে দেন। হয়রানি কেন করছেন? একথা বলতেই ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, পিটিয়ে দাঁত-মুখ ভেঙে দেব।’

আব্দুল মান্নান বলেন, এরপর মোহনপুরের সাবেক ইউএনও বর্তমানে এডিসি আলমগীর কবীরকে বিষয়টি ফোনে জানাই। তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার বর্ষাকে নিয়ে যেতে বললে তাকে সব খুলে বলি। এরপর ওসি থানায় মামলা নেন। তবে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ বাদ দেন। ওসি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া ধর্ষণের মামলা নেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ওসি আবুল হোসেন দাবি করেন, তিনি কোনো হয়রানি করেননি। মারধর করতেও চাননি। তার প্রচেষ্টাতেই মুকুলসহ চার আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

বর্ষার মা ফরিদা বেগম বলেন, বর্ষা বাড়ি ফিরে তাদের জানায়, সহপাঠী সোনিয়া তাকে প্রাইভেট পড়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। পরে সে রুমাল দিয়ে তার নাক ধরে। এরপর বর্ষা অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বাগবাজার এলাকায় দেখতে পায়। নিজের শরিরে থাকা জামার বদলে অন্য জামা দেখতে পায়। তার পাশে তখন অভিযুক্ত মুকুল ও দেলোয়ার নামের একজন ভ্যানচালক ছিল। তবে পুলিশ অপহরণ মামলায় দেলোয়ারকে আসামি করেনি। জামা বদল থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ফরিদা বেগম আরও বলেন, ২৭ এপ্রিল মামলার পর মুকুলকে গ্রেফতার করা হলে শুরু হয় চরম গালাগাল ও হুমকি। আসামিরা বাড়ি এসে মেয়েদের এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। গত বৃহস্পতিবার গোসল করতে গেলে বর্ষাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া হয়। এতে অভিমানে মেয়েটি আত্মহত্যা করে।

মোহনপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সানজিদা রহমান রিক্তা বলেন, একটি মেয়ে মারা গেলেও আরও দুই মেয়ে নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন বর্ষার বাবা। তাদের নিরাপত্তা ও অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ও দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্ষার আত্মহত্যার ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন তার বাবা। পুলিশ এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। আসামি মুকুল কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। আসামি সোনিয়া আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরিবারসহ পালিয়েছে। গতকাল দুপুরে তাদের বাড়ি গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 273

Unique Visitor : 76652
Total PageView : 94621