Foto

বায়তুল মোকাররমের পিলার গায়েব: কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইফা


বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ পিলার রাতের আঁধারে গায়েবের ঘটনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) দ্বন্দ্ব চরমে। নেতিবাচক খবর প্রকাশ হওয়ায় ইফার পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে বরখাস্ত করেছেন ইফার মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল।


ওই বরখাস্ত আদেশকে ক্ষমতাবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একই অভিযোগে কেন ইফার ডিজি সামীমকে বরখাস্ত ও তার চুক্তি বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সোমবার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, জাতীয় মসজিদের পিলার রাতে গায়েব করে দেন বায়তুল মোকাররম ইউনিটের সভাপতি আওয়ামী লীগের সোহরাব হোসেন গাজী। স্ত্রীর দোকান বড় করতেই ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির ভার বহনকারী দুটি পিলারের একটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ ফুট দেয়াল ভেঙে ফেলেন।

২৬ মে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদে বক্তব্য দেন ইফার পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার। এতে ক্ষুব্ধ হন ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এর পরই ’ঠুনকো’ অভিযোগে ৩০ মে মহীউদ্দিনকে বরখাস্ত করা হয়।

ইফার ডিজিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- ইফার পরিচালক মহীউদ্দিন মজুমদারের বিরুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি, দৈনিক মুক্তখবর, অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ইফার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

৩ জুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দফতরে বরখাস্তের আদেশ বাতিলের আবেদন করেন মহীউদ্দিন মজুমদার। ঘটনা তদন্তে একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে কমিটি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সময় বিধি অনুযায়ী ইফার বোর্ড অব গভর্নর্সের সম্মতি নেয়া হয়নি।

এমনকি বোর্ড অব গভর্নর্সের চেয়ারম্যান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক সম্মতিও নেয়া হয়নি। কর্মকর্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। এসব কারণে ইফার ডিজির ক্ষমতাবহির্ভূত, বেআইনি, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হল।

একই অপরাধে কেন সামীম মোহাম্মদ আফজালের চুক্তিভিত্তিক চাকরি বাতিল হবে না, এমন নোটিশ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়- ইফার ডিজি সামীম আফজালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নিয়োগ, পদোন্নতি, ক্রয়সহ নানাবিধ অভিযোগ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে।

৭ মে দুদক থেকে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি এসেছে। কাজেই একই অভিযোগে কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না, তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে না, তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয় চিঠিতে।

এ বিষয়ে ইফার ডিজি সামীম আফজালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসেও সাড়া দেননি। ইফার পরিচালক মহীউদ্দিন মজুমদার সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ’সত্য প্রকাশ করায় আমাকে অন্যায়ভাবে তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছিল। অথচ ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় নানা ধরনের নেতিবাচক নিউজ আসে। কিন্তু তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে বরখাস্ত করা হয়েছে- এমন নজির কোথাও নেই; যা আমার বেলায় হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় আমার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেছে। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ