Foto

ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পারলেই জয়: মওদুদ


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া ঠেকাতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। তিনি মনে করছেন, জনগণ সরকারের উপর এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেওয়ার সুযোগ তারা পেলেই ধানের শীষ জয়ী হয়ে আসবে।


দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এলেও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করে আসছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বলেন, “সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) এটা সামলাতে পারবে না যদি মানুষ তাদের ভোট দিতে পারে।

“সেজন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ভোটারদের বোঝাতে হবে, যত অসুবিধা হোক না কেন, যত হুমকি-ধমকি থাকুক না কেন, আপনাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের মাধ্যমে এই সরকারের সব অপকর্মের উত্তর দিতে হবে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই সভায় বিএনপির জোটসঙ্গী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “সমস্ত মানুষ বলছে, এবার সুযোগ পেলে দেখিয়ে দেব। সারা বাংলাদেশ একই কথা বলছে।

“লড়াইটা বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একার নয়, ১০ কোটি ভোটারদের লড়াই। যত বড় বিপদ হোক, গ্রেপ্তার হন, মার খান,নির্যাতিত হন, মানুষকে একবার গিয়ে বলতে হবে- এটাই একবার সুযোগ। এই ভোট দিলেই বেগম জিয়া জীবনে বাঁচবেন, কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। এই ভোট যদি দিতে পারেন, তাহলেই কেবল এই অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।”

মওদুদ বলেন, “গত দুদিনে তিনজন প্রার্থীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আরও বাড়বে এবং গায়েবি মামলা চলতেই থাকবে।

“গতকাল আমার এলাকায় শুনলাম ট্রাকে করে অন্য এলাকা থেকে পুলিশ বাহিনী আনা হয়েছে তারা রাতে অভিযান চালাবে বাড়িতে বাড়িতে, যাতে কোনো নেতা-কর্মী-সমর্থক না থাকতে পারে।”

এই বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৈরি হতে আহ্বান জানিয়ে মওদুদ বলেন, “আমার এলাকার এক মহিলার কথা- এইবার আঁর ভোট আঁই দিমু, লড়াই কইরা দিমু।

“প্রতিরোধ করতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই আমাদের। অন্য কোনো বিকল্প নাই ভোট ছাড়া।”

নোয়াখালীতে নিজের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেন মওদুদ।

মান্না বলেন, “আমি জানি, খুবই কঠিন লড়াই, প্রায় অসম্ভব লড়াই। কিন্তু সেটাকে সম্ভব করে তুলতে হবে। সেই লড়াই করবার জন্য আমরা আসছি, তার কোনো বিকল্প নাই।”

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “জনগণ আপনাদের পক্ষে আছে। যেখানে যাই, এটা আমি দেখতে পাই। বাতাস আপনাদের পক্ষে আছে।

“এই সরকার টিকতে পারবে না। নৌকা ডুবে গেছে। এই নৌকাকে আর উঠানো যাবে না।”

আদর্শ নাগরিক আন্দোলন ও জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন এর যৌথ উদ্যোগে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ