Foto

যে কারণে হজরত মুসা (আ.) কেঁদেছেন


যে কারণে হজরত মুসা (আ.) কেঁদেছেন- মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা স্বর্গীয় দূত হজরত জিবরাঈল (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন। জিবরাঈল (আ.) আল্লাহ তায়ালাকে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আপনি কিসে খুশি হন? আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই আমার বান্দা যখন আমাকে সিজদা করে। অত:পর জিবরাঈল (আ.) আল্লাহ তায়ালাকে সিজদা করলেন ৩০ হাজার বছর ধরে।


জিবরাঈল (আ.) মনে মনে খেয়াল করলেন আমার থেকে এত বড় দামি, এত বড় লম্বা সিজদা দুনিয়ার আর কেউ করতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয় আমার প্রতি খুশি হবেন।

জিবরাঈল (আ.) আল্লাহ তায়ালার দিকে মুতাহজ্জির হয়ে রইলেন কিন্তু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো খুশির বাণী জনানো হলো না, জিবরাঈল (আ.) আল্লাহ তায়ালাকে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আমি যে এত লম্বা সিজদা করলাম আপনি কী আমার সিজদার প্রতি কোনো খুশি হন নাই?

আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন – জিবরাঈল তোমার জবাব আমি দেব তার আগে তুমি একটু আরশে আজিমের দিকে তাকাও, জিবরাঈল (আ.) তাকিয়ে দেখলেন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার কুদরতী নূর দ্বারা আরশে লিখা রয়েছে- ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’

জিবরাইল (আ.) জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহ্! আমার সিজদার সংঙ্গে এই কালিমার কী মিল? আল্লাহ তায়ালা বললেন, ও জিবরাইল!

শোন আমি আল্লাহ এ দুনিয়া তৈরী করব ওই দুনিয়ার মানব জাতি ও জিন জাতির হিদায়াতের জন্য লক্ষাধিক নবী-রাসূলগনকে পাঠাব সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদকে পাঠাব এই নবীর উম্মতের ওপরে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করব আর

প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সতেরটা করে রাকাত আমার জন্য ফরজ করব প্রত্যেকটা রাকাতের মধ্যে দুটি করে সিজদা হবে আর প্রত্যেকটা সিজদার মধ্যে ওই নবীর উম্মত তিনবার করে ’সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা-’ পাঠ করবে।

জিবরাইল তুমি জেনে রাখ আমার ওই মাহবুব নবীর উম্মত যখন সিজদায় গিয়ে ’সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা-’ বলে আমাকে ডাক দিবে, জিবরাইল তুমি ৩০ হাজার বছর সিজদা করে যে নেকি পেয়েছ, আমি আল্লাহ্ আমার বান্দার আমল নামায় এর থেকেও ৪০ হাজার গুন বেশি নেকি লিখে দিব, সুবহানাল্লাহ…!!

এই জন্য হজরত মুসা (আ.) নবী কেঁদেছেন, হে আল্লাহ! আমাকে ওই নবীর উম্মত বানিয়ে দাও, যে নবীর উম্মত এক সিজদায় জিবরাঈল (আ.) এর সারা জীবনের ৩০ হাজার বছরের সিজদার নেকি নিয়ে গেল।

আমরা সেই নবীর উম্মত আমাদের কী করা উচিত আর আমরা কী করছি…?

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দিন। আল্লাহুম্মা আমিন।

Facebook Comments

" ধর্ম ও জীবন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ