Foto

লোকসভায় প্রধান ইস‍্যু এনআরসি, আসামে বিপুল চাপে বিজেপি


আসামে এবার লোকসভা ভোটে প্রধান ইস‍্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এনআরসি। বিজেপি এড়িয়ে যেতে চাইলেও বিরোধীরা বার বার এই বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা তুলে ধরছে। কংগ্রেস, এআইইউডিএফের পাশাপাশি অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা অগপ-‌র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রফুল্লকুমার মহন্ত সেই কথাটিই তুলে ধরেন। অথচ, শনিবার আসামে দু-দুটি জনসভা করলেও এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে একটি কথাও খরচ করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরং, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রোধে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জবাব দিতে কার্পণ্য করেনি কংগ্রেসও।


বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসাবে আসা হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি ও জৈনদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করায় মোদি সরকার। কিন্তু আসাম থেকে শুরু করে গোটা উত্তর-‌পূর্বাঞ্চলে ঝড় বয়ে যায় বিলটির বিরুদ্ধে। রাজ্যসভায় বিলটি আটকে যায়। তবে বিজেপি এখনও আশা ছাড়েনি। অধ্যুষিত এলাকায় বিল পাশ করানোর কথা বলেও গিয়েছিলেন মোদি। কিন্তু কাল অসমিয়া-‌প্রধান এলাকায় প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন।

বিলের কট্টর বিরোধী অগপ-র সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে লোকসভা ভোটের আগে ফের সমঝোতা করেই অসমে নির্বাচনে লড়ছে বিজেপি। কিন্তু এই জোটে সায় নেই দলের হেভিওয়েট নেতা প্রফুল্ল মহন্তর। তিনি প্রচারেও বের হচ্ছেন না। রবিবার সাংবাদিকদের মহন্ত বলেন, "নাগরিকত্ব বিলের প্রকৃত বিরোধী যারা, তাদেরই ভোট দেওয়া কর্তব্য অসমবাসীর।

এই বিল সংসদে পাশ হলে অসমের সর্বনাশ হবে। হারিয়ে যাবে জাতপাতের ভারসাম্য।" মহন্তর সাফ কথা, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলই এবার ভোটের বড় ইস্যু। একই মত এআইইউডিএফ-‌এর। দলের প্রধান বদরুদ্দিন আজমল মনে করেন, এর ভিত্তিতেই অসমবাসী ভোট দেবেন। একই সঙ্গে যোগ করেন বাঙালিদের ওপর এনআরসি-‌জুলুমের কথাও। প্রসঙ্গত, কংগ্রেস জোট করতে চায়নি বদরুদ্দিনের দলের সঙ্গে।

মোদি অসমে ভোট প্রচারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে গলা ফাটানোয় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। কংগ্রেস নেতার দাবি, গত পাঁচ বছরে অসমে কতজন বিদেশিকে ধরতে পেরেছে বিজেপি সরকার সেই তথ্য সামনে আনুক। তাঁর অভিযোগ, হার নিশ্চিত বুঝেই মোদি এখন মিথ্যে কথা বলছেন । খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র)দের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে। কংগ্রেসও তাঁদের ভোট প্রচারে নাগরিকত্ব বিলকে হাতিয়ার করেছে।

আসামের সুশীল সমাজও ডাক দিয়েছে বিলের হোতা বিজেপিকে পরাস্ত করার। প্রবীণ বুদ্ধিজীবী হীরেন বড়গোঁহাইয়ের মতোই কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির প্রধান অখিল গগৈও বিজেপি-‌অগপ জোটকে পরাস্ত করার ডাক দেয়।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ