Foto

সত্তাসন্ধানীদের গল্প ‘ঢাকা মেট্রো’ এখন চলছে ‘হইচই’–এ


এমন যদি হয়, যেখানে আপনার জীবন আটকে আছে সংখ্যাতত্ত্বের সফলতায়, প্রাচুর্যের মধ্যেও একাকিত্বের মতো দৈন্য বারবার হানা দিয়ে যায় জীবনে, এমন অবস্থায় কেমন হতো যদি একদিন সব ছেড়ে পালাতে পারতেন শহুরে জীবন ছেড়ে কোনো এক অজানা গন্তব্যের পথে। সঙ্গী বলতে থাকত যদি শুধু ঢাকা মেট্রো নম্বর প্লেটের একটি গাড়ি। পথে পরিচয় হচ্ছে অজানা সব মানুষের সঙ্গে আর জড়িয়ে যাচ্ছেন অদ্ভুত সব ঘটনাপ্রবাহে। পরিবর্তিত পরিস্থিতে ফিরে পাচ্ছেন নিজের আত্মপরিচয়। নিজেদের অঙ্গনে সফল দুই বন্ধু নেভিল ফেরদৌস হাসান ও অমিতাভ রেজা চৌধুরীর এমনই এক ‘যদি’ময় কল্পনা থেকেই জন্ম নেয় ওয়েব সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’র কাহিনি।


অমিতাভের মুখে শুনে এক রাতেই একে গল্পে রূপ দিয়ে দেন আদিত্য কবির। অমিতাভের ইচ্ছে ছিল এই গল্পে সিনেমা বানাবেন। বেশ কয়েকজন প্রযোজকের কাছে গিয়েছিলেন গল্পটি নিয়ে। গল্পটির প্রশংসা করলেও সিনেমা বানানোয় আগ্রহ দেখাননি কেউই। "ঢাকা মেট্রো" চাপা পড়ে যায় অন্য কাজের ভিড়ে। এরপর যখন "হইচই" ওয়েব সিরিজ নির্মাণের প্রস্তাব করে, দ্বিতীয় আর কোনো গল্প নিয়ে ভাবেননি অমিতাভ।

মূল গল্পের ধারা বজায় রেখে সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, স্মৃতি খুঁজে ফেরা, মুক্তি, বন্দিজীবন, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অবসাদ, বিভ্রম ও অন্তিমযাত্রার মতো নয়টি বিষয়ে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ওয়েব সিরিজ। পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে ১১ এপ্রিল ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্টে বাংলা কনটেন্টের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম "হইচই"-এ মুক্তি পেয়েছে "ঢাকা মেট্রো"। হইচইয়ের গ্রাহকেরাই কেবল এই সিরিজ দেখতে পারবেন।

কলকাতা কেন্দ্রিক এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ভারতের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করলে বাংলাদেশে নিজেদের অফিশিয়াল কার্যক্রম শুরু করে হইচই। বাংলা ভাষার বাছাই করা চলচ্চিত্র, অরিজিনাল সিরিজ, গান, মিউজিক ভিডিওসহ দুই হাজার ঘণ্টারও বেশি কনটেন্টসমৃদ্ধ হইচই বাংলাভাষীদের বিনোদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ভারতীয় বাংলা কনটেন্টের পাশাপাশি সারা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের দেশি কনটেন্টের স্বাদ দিতেই বাংলাদেশও সিরিজ নির্মাণের বিশাল কার্যক্রম শুরু করেছে হইচই। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ স্টোর থেকে হইচই অ্যাপ ডাউনলোড করে নির্দিষ্ট একটি ফির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে নিলে মুঠোফোনেই দেখা যাবে এতে থাকা সব কনটেন্ট। এ ছাড়া কম্পিউটার ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েডটিভিতেও দেখা যাবে এর কনটেন্টগুলো। যেকোনো ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিটকার্ড ছাড়াও লোকাল মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকাতেই গ্রাহক নিবন্ধন ফি প্রদান করা যাবে।

নিজের প্রথম ওয়েব সিরিজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অমিতাভ রেজা বলেন, "ওয়েব সিরিজের ধারণাটি আমাদের মিডিয়া জগতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ কাজ করে আমি আনন্দিত। আমি নিশ্চিত, আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে। ডার্ক কমেডি ও থ্রিলারের সমন্বয় দর্শকদের একটি ভিন্ন স্বাদ দেবে।"

নাগরিক জীবনে বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের বিষয়টি রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে "ঢাকা মেট্রো" সিরিজটিতে। প্রচলিত অন্যান্য মাধ্যমে যে সীমাবদ্ধতাগুলো রয়ে গেছে, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম সেসব থেকে মুক্ত বলে এর অপার সম্ভাবনার পুরোটাই কাজে লাগিয়ে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেই শহুরে জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচালক। চিত্রনাট্যে থাকা ধোঁয়াশার দিকটিতে নাটকীয়তা যোগ করতেই দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে হইচইয়ের ওয়েব সিরিজ নির্মাণের কারণ সম্পর্কে এর বিজনেস লিড সাকিব আর খান বলেন, "শুধু ভারত বা বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষীদের কাছে কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের সুবিধা পৌঁছে দিতে চায় হইচই। ভাষার মিল থাকা সত্ত্বেও চাহিদা ও রুচির ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য থেকেই যায়। তা ছাড়া গণ্ডির বাইরের ভিন্নতার স্বাদ চায় সবাইই। বাংলাদেশের কনটেন্টে যে শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই নির্মাণ করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়, ভারতীয় বাংলাভাষীরাও বাংলাদেশের স্বাদ পেতে মুখিয়ে আছে। দ্বিমুখী এই চাহিদার বিষয়কে প্রাধান্য দিতে ও হইচইয়ের সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করতে আমরা নিয়মিতভাবেই বাংলাদেশে কনটেন্ট নির্মাণ করতে আগ্রহী।"

 

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ