Foto

সরকার বেতন দিচ্ছে না, হারামের পয়সা খেয়ে লাভটা কি: ভূমিমন্ত্রী


হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝটিকা পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী। এর আগে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ভূমি অধিদপ্তরের দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর এটিই তার প্রথম ঝটিকা পরিদর্শন।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঝটিকা পরিদর্শনকালে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কাছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া টাকা থেকে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কেটে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান ভুক্তভোগীরা। পরিদর্শনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের ভূমিমন্ত্রী বলেন, ’ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি চেক দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তা দালালদের হাতে কিভাবে যাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না। এজন্য ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতি চালুর চিন্তা করছি’।

পরিদর্শনের সময় শিহাব উদ্দিন মন্ত্রীকে জানান, ’নিজ জমির কাগজপত্রের বিষয়ে জেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পরমেশ্বর চাকমার কাছে এসেছেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তার ফাইল আটকে রেখে নানাভাবে হয়রানি করছেন এই সার্ভেয়ার’।

অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার পরমেশ্বর চাকমাকে ডেকে পাঠান মন্ত্রী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ’ফাইল আটকে রাখার প্রবণতা কেন? মানুষকে ঘুরানো, হয়রানি করা- এসব কেন? আমরা তো মানুষের সেবা করতে চাচ্ছি। তোমরা কি অনেক বড় অফিসার হয়ে গেছো? আমাদের চেয়ে বড় অফিসার হয়ে গেছো? মানুষকে ক্ষমতা দেখাও? হোয়াট ননসেন্স ইজ দিস? এটা তো আমি টলারেট করব না’।

তিনি আরও বলেন, ’নিচের লেভেলের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি আমার কাছে, ডিসির কাছে কিংবা এডিসির কাছে কোনো কমপ্লেন আসে, নিচের লেভেলে ফাইল আরও স্লো হয়ে যায়। তখন নানা আইন বের হয়ে যায়। এসবের কারণ কী’?

তিনি আরও বলেন, ’দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ’জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরা নিজেরাও চাই জনগণ যাতে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। হয়রানি ও দুর্নীতি এখানে থাকতে পারবে না। এজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গী ও কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে’।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদেরকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ’এমন একটা রেওয়াজ তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগী কেউ যদি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করে তখন অধিনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা প্রতিশোধ নিতে হয়রানির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। এ ধরনের হয়রানি সহ্য করা হবে না’।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ’একটা মানুষের কত টাকা দরকার। ১২ পার্সেন্ট, ১৫ পার্সেন্ট টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ শুনছি আমি। সরকার বেতন দিচ্ছে না? হারামের পয়সা খেয়ে লাভটা কি?’

অধিগ্রহণ শাখায় দালালচক্রের দৌরাত্মের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মন্ত্রীকে জানান, ’জেলা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে একটা দালাল চক্র সক্রিয় আছে। দালালরা খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দেখেছি, আমি নিজে বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক হাতে তুলে দিয়ে এসেছি। সেই চেক দেখি আবার দালালের হাতে চলে গেছে। আমাদের অফিসের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে বদলি করে দিচ্ছি। চক্রটাকে ধরার চেষ্টা করছি। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকেও বলেছি’।

এ সময় কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ’কোনো প্রভাবশালী নাই। প্রভাবশালী বলতে আমি কিছু বুঝি না। সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কে? মহামান্য আদালতের রায় আমাদের আছে। কাজ দেখেন, কথা বেশি বলে লাভ নেই’।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী অধিগ্রহণ শাখায় আসা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে দুর্নীতি ও হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশিদকে নির্দেশনা দেন।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ