Foto

সার্বিয়ান অভিনেত্রী বিয়ের জন্য বাংলাদেশী ছেলে খুজছেন


‘হৃদয়ের রংধনু’র মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী ছবিতে অভিষেক হয়েছে সার্বিয়ান মডেল ও অভিনেত্রী মিনা পেটকোভিচ বসকানের। জটিলতা কাটিয়ে শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাজিবুল হোসেন।


Hostens.com - A home for your website

ইংরেজির সাথে ভাঙ্গা বাংলাও বলতে পারেন এই অভিনেত্রী। বাংলাদেশে নিজের ছবি মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে এজন্য আমি অনেক আনন্দিত। আমার মনে হয়েছে এখানকার দর্শকরা খুব আবেগপ্রবণ ও তাদের মনে জটিলতা কম। সিনেমাটিতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে। যার কারণে সবাই খুব সহজে সিনেমাটি গ্রহণ করছেন এবং হলে গিয়ে দেখছেন। তাছাড়া আমাকে অনেকে ফেসবুকে ইনবক্সে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি খুব খুশি।


বাংলাদেশী ছবিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার আছে খুব ভালো লেগেছে। কারণ এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক। সিনেমা নির্মাণ পুরোটাই টিম ওয়ার্কের উপর নির্ভর। পুরো টিম আমার কাছে পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিল। সবাই আমার খুব যত্ন নিয়েছেন। আমি আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও টিমের সদস্যদের সাথে সহজেই শেয়ার করতে পেরেছি। তাই কাজ করতে একেবারেই কষ্ট হয়নি।

ইউরোপের দেশ সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশের ছবির সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি খুব মজার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দেশের সিনেমার সাথে আমার যুক্ত হওয়াটা সিনেমার গল্পের মতো। ভবিষতে আমি এ গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করবো। স্ক্রিপ্টও লেখা শুরু করেছি। তাই এখনই গল্পটা শোনাতে চাচ্ছি না। সবাইকে পর্দাতে আমার বাংলাদেশে আসার গল্প দেখাবো। সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটা তথ্য দিই, আমি সার্বিয়ার নাগরিক হলেও সেখান থেকে কিন্তু বাংলাদেশে আসিনি। অন্য একটি দেশ থেকে এসেছি।

নিজের অন্য কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, শুরুর দিকে আমি সার্বিয়াতে ছোট বোনের সাথে মাডেলিং করেছি। এরপর ইতালি, চায়না, থাইল্যান্ড ও ভারতে মডেলিং করেছি। এছাড়া বাংলাদেশের সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর আমি ভারতের একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছি। সার্বিয়ান নির্মাতা সারার পরিচালনায় সিনেমাটির নাম ‘ইঙ্কব্লট’। জয়পুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়েছে।

অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক সিনেমা দিয়ে বাংলাদেশে অভিনয় অভিষেক হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হৃদয়ে রংধনু’ ছবিতে শুটিংয়ের সময়টা আমার অসাধারণ কেঁটেছে। আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, কিন্তু তেমন ঝুঁকি ছিল না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রতিবার শুটিংয়ের সময় আমাকে অনেকদিন ধরে সমুদ্রের সামনে থাকতে হয়েছে। যেটা আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয় ছিল। কারণ আমার দেশে কোনো সমুদ্র সৈকত নেই। তাই কক্সবাজারে গিয়ে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাছাড়া এখানকার আবহাওয়াও আমার অনেক পছন্দ। আমাদের দেশে অনেক ঠাণ্ডা পড়ে, কিন্তু এখানে তেমন না।

এই দেশে অভিনয় করতে এসে শিখে ফেলেছেন বাংলা। এখন তার কাছে নাকি প্রিয় ভাষা হয়ে গেছে বাংলা। এ প্রসঙ্গে মিনা পেটকোভিচ বলেন,
শুটিংয়ের প্রয়োজনে আমাকে বাংলা শিখতে হয়েছে। আমি ইংরেজিতেও কথা বলতে পারি। কিন্তু ইংরেজির চেয়েও আমার বাংলা ভাষা অনেক বেশি ভালো লাগে। বাংলা বলা মানুষদেরও আমার অনেক ভালো লাগে। আমার ইচ্ছে আছে সারাজীবন বাংলাদেশে থাকবো আর বাংলাদেশের কোনো ছেলেকেই একদিন বিয়ে করবো।

নিজের প্রিয় বাংলা বাক্য সম্পর্কে বলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। জাতীয় সঙ্গীতের এই লাইন আমার খুব প্রিয়’। বাংলাভাষা আয়ত্ব করতে তিনি ইউটিউবে বাংলাদেশের সিনেমা দেখেছেন। এছাড়া অনেক নাটকও দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে এই দেশের মানুষ সম্পর্কে তার মন্তব্য, এখনকার মানুষ প্রেমের গল্প বেশি ভালোবাসেন। আর নাটক দেখতে দেখতে কয়েকজনের অভিনয় আমার দুর্দান্ত লেগেছে। তবে তাদের নাম মনে করতে পারছি’।

বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে তিনি ভবিষৎ পরিকল্পনাও ঠিক করেছেন। এ সম্পর্কে মিনা পেটকোভিচ বলেন, বাংলাদেশের আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছে আছে আমার। শুধু ভালোবাসার গল্প না। আমি নতুন কোনো বিষয়ের গল্পে কাজ করবো। যেটা ট্রেন্ড চেঞ্জ করবে।

Facebook Comments

" সিনেমা জগৎ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 469

Unique Visitor : 71480
Total PageView : 91543