Foto

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় এবার বিচারককে তলব


উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান রাখায় ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আল মামুনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শাহাবুদ্দিন মিয়াকেও ফের হাজির থাকতে বলা হয়েছে।


বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী এদিন হাইকোর্টে হাজির ছিলেন রাবেয়া খাতুন ও এপিপি শাহাবুদ্দিন মিয়া।

১০৪ বছর বয়সী রাবেয়া খাতুনকে নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল। ৩০ এপ্রিল এক আদেশে রাবেয়ার মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১৮ বছর আগে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত ওই মামলার নথি তলব করে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচার বিলম্বের ব্যাখ্যা জানতে চান আদালত। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে চলমান মামলা কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না– জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে ১৫ মে আরেক আদেশে রাবেয়াকে ২৬ জুন আদালতে উপস্থিত করতে তার আইনজীবীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এপিপি শাহাবুদ্দিন মিয়াকেও হাজির হতে বলা হয়।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার তারা আদালতে হাজির হন। এদিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শুনানি শুরুর পর বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলেন, ’১৭ বছর ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও বিচার শেষ হয়নি। এটা কী বিচার? বিচারিক আদালতের বিচারকও বিষয়টি যথেষ্ট অবহেলা করেছেন।’ আদালতে হাজির হয়ে এপিপি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, ’আপনার দাখিল করা জবাবে সন্তুষ্ট নই। এই নারীকে কেন আদালতে আসতে হলো?’

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পরও কীভাবে বিচারিক আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্টের বিচারপতি বলেন, একজন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাইকোর্টের নির্দেশনা নজরে নিলেন না। মামলার সাক্ষীর জন্য চলমান রাখলেন। ভবিষ্যতে তিনি জেলা জজ হওয়ার পর কীভাবে আদালত চালাবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট। এর পর আদালত বলেন, এখন থেকে এ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে থাকবে। নিম্ন আদালতে যাবে না।

এদিকে মামলার অপর আসামি জুলহাস মিয়া মারা গেছে কি-না, সে ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রাবেয়া খাতুনকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার জাতীয় পরিচয়পত্র আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল সমকালকে বলেন, স্থগিতাদেশ থাকার পরও মামলার কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকার অতিরিক্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এপিপিকেও হাজির হতে হবে।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ