Foto

হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তি করল রাশিয়ান টেলিকম কোম্পানি


ফাইভ জি সেবা উন্নয়নের জন্য রাশিয়ান টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে হুয়াওয়ে। এই চুক্তির আওতায় আগামী বছর থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ফাইভ জি সেবা উন্নয়নে কাজ করে যাবে প্রতিষ্ঠান দুটি। চীনের প্রেসিডেন্ট তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া গিয়ে দেশটির সঙ্গে এ চুক্তি করেন। সফরকালে শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তার সেরা বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন।


সম্প্রতি গুগল তার কিছু সেবা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলে বিপদের মুখে পড়ে হুয়াওয়ে। ধারণা করা হচ্ছে আমেরিকাসহ পশ্চিমের বেশ কিছু দেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে হুয়াওয়েকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পর চীন রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। ফাইভ জি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরিষেবাকে সমৃদ্ধ করার এ পাইলট প্রকল্প চলবে ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এমনটি জানিয়েছে রাশিয়ান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমটিএস। গুগল থেকে হুয়াওয়ে যে সকল পরিষেবা পাবে না বা বঞ্চিত হবে মূলত সেগুলো নিয়ে কাজ করবে এমটিএস।

প্রযুক্তি দুনিয়ার আধিপত্য নিয়ে আমেরিকা ও চীনের অঘোষিত যুদ্ধের একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। যার ফলে হুয়াওয়েকে বেশকিছু পরিষেবা থেকে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কেবল দুটি দেশের মধ্যে নয় বরং প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে এটি এখন একটি বড় ধরনের লড়াই।

রাশিয়া সফরে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বললেন, পুতিন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তিন দিনের সফরে মস্কো যান তিনি। দুই নেতা একটি বাণিজ্য-চুক্তিতে সই করেছেন। বিবিসি জানিয়েছে মস্কো চিড়িয়াখানার জন্য দুটি পান্ডা দিয়েছে চীন। চীনের প্রেসিডেন্ট বুধবার মস্কো পৌঁছেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ’রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও তার গভীর। গত ছয় বছরে পুতিনের সঙ্গে তার অন্তত ৩০ বার দেখা হয়েছে। সফর করা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়ায় গেছেন জিনপিং সবচেয়ে বেশিবার। তিনি বলেন, ’পুতিন আমার সবচেয়ে সেরা বন্ধু ও সহকর্মী।’

জিনপিংকে তার মনোভাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক অভূতপূর্ব পর্যায়ে উন্নতি হয়েছে। এই সম্পর্ক গ্লোবাল পার্টনারশিপ ও কৌশলগত সহায়তার। মস্কো ও চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ দুই শিবিরেই আগ্রহ ব্যাপক। ইউরোপ এবং বিশেষ করে আমেরিকার বৈরী আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দুই দেশ ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে শুরু করে।

পাঁচ বছর আগে ইউক্রেনের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে পশ্চিমা বিশ্ব। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে সহায়তা করার অভিযোগেও রাশিয়ার সমালোচনায় মুখর পশ্চিমারা।

অন্যদিকে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে চীনকে পিঠ দেখাতে শুরু করলে দেশদুটির মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দু’দেশের বাণিজ্য-সম্পর্ক পরিণত হয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধে। আমেরিকার সঙ্গে এই তিক্ততার মধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিল চীন। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে। ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে রেকর্ড ১০৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ