Foto

২৫০ শয্যার ভবন তবে কী জন্য?


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর ভিড় সামলাতে গিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অথচ পাশেরই দাঁড়িয়ে আছে ২৫০ শয্যার একটি নতুন ভবন। উদ্বোধন হয়ে গেলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়াসহ সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকায় ভবনটি কাজে লাগছে না।


সরেজমিনে গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখা যায় রোগীদের লম্বা সারি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে অনেকেই মেঝেতে বসে পড়েছে। তাদের মধ্যে রুলি বেগম (৬৫) জানান, তিনি এসেছেন সকাল আটটায়। লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এ জন্য বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। সুমা বেগম (৫০) জানান, তিনি পৌনে ১০টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আর পারছেন না। ক্লান্ত হয়ে শেষমেশ সঙ্গে আসা এক ভাতিজিকে তাঁর স্থানে দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে একটু বসেছেন। বেলা পৌনে একটার দিকেও তাঁর অবস্থান ছিল চিকিৎসকের কাছ থেকে অনেক দূরে।

পরে হাসপাতালে ঢুকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম মো. খায়রুল আতাতুর্কের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। অন্তর্বিভাগে ২০০ জনের বেশি ভর্তি থাকে। অথচ এ ভবনে শয্যা আছে ১০০টি। অন্যদিকে জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী সামলাতে হয়। এত রোগী সামলাতে গিয়ে প্রতিদিন চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও পাঁচজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (স্যাকমো) হিমশিম খেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই মানসম্পন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

সিভিল সার্জন আরও জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সদর আসনের সাংসদ আবদুল ওদুদদের উপস্থিতিতে ২৫০ শয্যার নবনির্মিত ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এরপরও এ ভবনের পূর্ণাঙ্গ কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতালে এখনো অক্সিজেন সরবরাহ লাইন স্থাপিত হয়নি। সংযুক্ত হয়নি লিফট। আর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে জনবল। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসার সুফল পাবে না মানুষ। জনবলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

শিশু বিশেষজ্ঞ আবুল কাশেম জানান, শিশু বিভাগে শয্যা রয়েছে ১৮টি। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই এর তিন গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিনই বহির্বিভাগে ১০০ জনের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। ভর্তি রোগীর ছাড়পত্র আর ব্যবস্থাপত্র লিখতে লিখতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। এরপর আবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডের রোগী দেখতে হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিম সরকার জানান, ’আমাদের যে জনবল, তাতে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৬০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যায়। অথচ সেখানে চিকিৎসা নিতে আসছে তিন গুণ। এ অবস্থায় অপেক্ষায় থেকে থেকে চিকিৎসা না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এরপর থেকে ১ হাজার ২০০টির বেশি টিকিট বিক্রি করা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ২৫০ শয্যার ভবনটিতে জনবল পাওয়া না গেলে এ হাসপাতালে মানসম্পন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ