Foto

৯ মাসে বাজার মূলধন কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা


ছন্দে নেই পুঁজিবাজার। দীর্ঘদিন থেকে বাজারে মন্দ দশা চলছে। বছরের শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ না নিলে বাজার দীর্ঘমেয়াদি মন্দায় পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ১০ অক্টোবর, বুধবার দৈনিক শেয়াজ বিজ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।


শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের শেষ কার্য দিবসে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ফান্ড ও কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বাজার মূলধন কমে গেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, এ কথা ঠিক যে বছরের শুরু থেকে বেশির ভাগ সময় বাজার খারাপ পরিস্থিতি পার করেছে। তবে আমি মনে করছি এই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। বিশেষ করে চীনা ফান্ডের অর্থ বাজারে এলে বিনিয়োগকারীরা মানসিকভাবে চাঙা হবেন। এতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
গত বছরের শুরুতে কয়েকটি কারণে বাজারে মন্দা অবস্থা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে সামনে রেখে বাজারে অস্থির অবস্থা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীন-ভারতকে নিয়ে টানাহেঁচড়ার কারণে বাজার নিম্নমুখী হয়। এই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
এ সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। সে কারণে বাজার মূলধন কমে গেছে। এটিই প্রধান কারণ। তবে আর একটি কারণ হতে পারে এই সময়ের মধ্যে বাজারে অর্থের পরিমাণ আসা কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার যদি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল থাকে তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। বাজার ভালো থাকলে মূলধন এমনিতেই বাড়বে।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ